এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর বাঁধ সংস্কারে নিম্নমানের চটের বস্তা ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন নিম্নমানের বস্তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।
উপজেলা সদরের দশকলোনী এলাকায় আত্রাই নদীর পূর্বপারে সিসি ব্লক ফেলে বাঁধ সংস্কার করা হবে। এর আগে নদীতে চটের বস্তায় ও জিও ব্যাগে ভরে বালু ফেলা হচ্ছে। এর উপর ব্লক সাজানো হবে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, এই কাজে সম্পূর্ণ নতুন চটের বস্তা ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারতীয় প্রায় পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত নিম্নমানের বস্তা।

এসব বস্তার কোন কোনটিতে বালু ভরার সময়, আবার কোনটাতে বালু ভরে নদীতে ফেলার সময় ফেটে যাচ্ছে। নদীতে ফেলা বালু যাতে পানির স্রোতে ভেসে না যায় সেজন্য বস্তায় ভরে বালু ফেলা হলেও বস্তা ফেটে যাওয়ায় সে উদ্দেশ্য চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

দেখা যায়, শ্রমিকেরা বস্তায় বালু ভরে জমা করছেন। পরে এগুলো নদীতে ফেলা হবে। বস্তাগুলোর গায়ে হিন্দি ভাষায় লেখা রয়েছে। নিম্নমানের এসব বস্তার অনেকগুলো পানিতে ভিজে রঙ নষ্ট হওয়া, প্রায় পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া। তবে নষ্ট হলেও সস্পূর্ণ অনুপযোগী এসব বস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে প্রকল্পের কাজে।

শ্রমিকেরা জানান, একাজের ঠিকাদার নওগাঁর রেজু শেখ। প্রকল্প এলাকায় পাওয়া গেল ঠিকাদারের ভাগ্নে নসিবকে। তিনি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানালেন, যেসব বস্তা খারাপ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানান, নওগাঁর ধামইরহাট, পত্নীতলা ও মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর বাঁধ সংস্কারের জন্য ১৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে মহাদেবপুর দশকলোনী এলাকায় হবে ৫০০ মিটার। প্রকল্পের আওতায় প্রথমে নদীতে চটের বস্তায় ভরে বালু ফেলা হবে। তার উপর ফেলা হবে জিও ব্যাগে ভরে বালু। তার উপর সাজানো হবে সিসি ব্লক। তিনি জানান, এখানে নিম্নমানের বস্তা ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছেন। তবে সেসব নিম্নমানের বস্তা বাতিল করা হচ্ছে।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।