বগুড়া অফিস : জয়পুরহাটে মসজিদের ইমাম মহসীন আলী হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত যুবক শাহিনুর ওরফে শাহীনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার সদস্যগন। মহসীন হত্যাকান্ডের ১৩ দিনের মাথায় আসামিকে গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর জড়িত শাহিনুর ওরফে শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন প্রেস ব্রিফিংএ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত শাহিনু নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার চাকরাইল গ্রামের নঈম উদ্দিনের ছেলে এবং নিহত মহসীন আলী (২৬) জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বেলগাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারের পর শাহীনুর জানান, ১২ বছর ঘর সংসার করার পর এক কন্যা সন্তানের জননী তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা ওরফে শাকিলা এক বছর আগে তাকে তালাক দেন। ওয়াসিফা নামের সেই কন্যা সন্তান শাহীনুরের কাছে থাকে এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ২য় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে।

এরপর চারমাস আগে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বেলগাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মহসীনকে বিয়ে করেন। শাহিনুরের সন্দেহ মহসীন তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন।

এই সন্দেহ থেকে শাহীনুর মহসীন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহীনুর নিজের নাম পরিচয় গোপন করে মহসীনের সাথে মোবাইল ফোনে সখ্যতা গড়ে তোলেন। গত ৭ জুন সন্ধ্যায় শাহীনুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি বাজারে মহসীনের সাথে সাক্ষাৎ করে। সেখানে দুইজনে চা পান করেন এবং বিভিন্ন গল্প করে সময় কাটান।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহীনুর তার মোটরবাইকে মহসীনকে নিয়ে মোলামগাড়ি বাজার থেকে করিমপুর গামী রাস্তায় যান। একপর্যায় ফাঁকা জায়গায় মোটরবাইক থামিয়ে মহসীনকে নিজের পরিচয় দেন এবং তার স্ত্রী শাকিলাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে বলে দোষারোপ করতে থাকেন। একপর্যায় তার সন্তান ওয়াসিফার উপবৃত্তির জন্য তার মা শাকিলার জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে বলেন।

এতে মহসীন আপত্তি করে তার কাছে নেই বলে জানিয়ে দেন। এ সময় শাহীনুরের কাছে থাকা একটি লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথার পিছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় শাহীনুর লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথায় আরো কয়েকটি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ রাস্তার পার্শ্বে ধানক্ষেতে ফেলে মোটরবাইক নিয়ে চলে যান।

পরদিন ৮ জুন মহসীনের লাশ ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে কালাই থানা পুলিশ উদ্ধার করে এবং থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন আরো জানান, পিবিআই গত মঙ্গলবার পিবিআই বগুড়ার সদস্যরা গাজিপুর জেলার গাছা থানা এলাকার ছয়দানা হাজিরপুকুর এলাকা থেকে শাহীনুরকে গ্রেফতার করে। হত্যাকান্ডের পর থেকেই শাহীনুর ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিল।