হুমায়ুন কবির জুশান, কক্সবাজার : ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি বছর মারা যায় এক লাখ আট হাজার মানুষ। আর এক লাখ ৫৬ হাজার রোগী নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। গড়ে একজন ক্যান্সার রোগীর বছরে খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ১৭ শতাংশ পরিবার চলে যায় দfরিদ্রসীমার নিচে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যান্সার চিকিৎসা সেন্টার না থাকার কারণে ব্যয় বাড়ছে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতাও অনেক কম। মরণব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে প্রতি বছর নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার। রাজধানীর ক্যান্সার হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা এই প্রতিবেদকের (৯৩ বন্ধুর) সন্তানের মাথায় মায়ের স্নেহের ছোঁয়া। জানেন না এই আদর আর কতদিন করতে পারবেন। গেল দেড় বছর ধরে ছেলে সাকিব আল হাসান আক্রান্ত অস্টো সারকোমা ক্যান্সারে। এরই মধ্যে খরচ মেটাতে বসতবাড়ি জমি সবই বিক্রি করেছেন। এটি শুধু একজন সাকিবের উদাহরণই নয়।

মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে এমন লড়াইয়ের গল্প রয়েছে অনেক পরিবারে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এ্যাডভোকেট এ এম তোফাইল। তিনি উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। তার শ্যালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, দেশে সমন্বিত ক্যান্সসার চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে নির্ভর করতে হচ্ছে।

উখিয়া-কক্সবাজার থেকে নিয়ে গিয়ে রাজধানী মহাখালি ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও ভালো না হওয়ায় দুলাভাই এ্যাডভোকেট এ, এম তোফাইলকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। এরপরও বাঁচাতে পারিনি।

মহাখালি ক্যান্সার হাসসপাতালে গড়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

গবেষণা বলছে, প্রায় ২০ ধরনের ক্যান্সারে প্রতি বছর আক্রান্ত হয় দেড় লাখের বেশি মানুষ। এসবের মধ্যে স্তন ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, কোলারেক্টাম ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, স্টমাক ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সারের আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে দেশে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। খরচ মেটাতে ১৭ শতাংশ মানুষ চলে যায় দারিদ্রসীমার নিচে। খরচ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ রোগের শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে আসেন না। তাই জাতীয়ভাবে ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর তাগাদা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। খাদ্যাভ্য্যাস পরিবর্তন, তামাকমুক্ত থাকা ও পরিবেশ দূষণরোধে ব্যবস্থা নিতে পারলেই ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব বলে বলে আসছেন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।