খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এখন শুধু ‘দিল্লি চলো’। দুই হাজার ২৪’র লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের নেত্রী হওয়ার তোড়জোড় শুরু।

এই প্রথম সাড়ম্বরে ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানকে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সারা দেশে ছড়িয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

করোনাকালে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্টে মমতা ভার্চুয়াল ভাষণ দিলেন। আর সেই ভাষণ দেখানোর ব্যবস্থা করা হলো দিল্লি, ওড়িশা, আসাম, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, ত্রিপুরা গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিতে। উত্তর প্রদেশে বারাণসী ছাড়াও বরেলি, আজমগড়, মির্জাপুরে মমতার ভাষণ বড় স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে।

এই প্রথম দিল্লিতে সংসদের বাইরে মমতার ভার্চুয়াল ভাষণ বড় স্ক্রিনে তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে বসে শুনেছেন ও দেখেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম, মধ্যপ্রদেশের সাবেক কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, তার মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির নেতা ও মুলায়ম সিং যাদবের ভাই রামগোপাল যাদব, আরজেডি-র মনোজ ঝা, ডিএমকে-র তিরুচি শিবা, টিআরএসের কে কেশব রাও, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং অকালি দলের নেতা বলবিন্দর সিং।

মমতার ভাষণ ভিন রাজ্যের মানুষ যাতে বুঝতে পারেন, তার জন্য সেখানে অনুবাদের ব্যবস্থা করা হলো। মমতা নিজেও বাংলার পাশাপাশি ইংরাজি ও হিন্দিতে বলেছেন।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিরোধী দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে নিজেকে ও তৃণমূলকে জাতীয় স্তরে তুলে এনে নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কাজটা করলেন মমতা। তিনি যে মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইছেন, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে তা স্পষ্ট। মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাটকে বেছে নিয়ে সেখানে মমতার ভাষণ শোনাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২১-এর ভাষণেও মমতা আক্রমণ করেছেন মোদীকে। এই সবের মধ্যেই ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর বা পিকের পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট।

মমতা বলেছেন, ”২০২৪-এর নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে। এখনই ফ্রন্ট করতে হবে। রোগী মরে গেলে ডাক্তার ডেকে কোনো লাভ নেই।”

শরদ পাওয়ার, চিদম্বরমদের প্রতি মমতার আবেদন, ”আপনারা একটা বৈঠক ডাকুন। আমি আগামী সপ্তাহে দিল্লি যাচ্ছি। তখন বৈঠক হলে আমিও যোগ দিতে পারব।”

মমতার দাবি, ”সকলের ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। পেগাসাস দিয়ে। তাই আমি কারোর সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। ওরা নিজের মন্ত্রীদের ফোনও ট্যাপ করছে। কাউকে বিশ্বাস করে না।”

সুপ্রিম কোর্টের কাছে তার আবেদন, ”আপনারা নিজের থেকে পেগাসাস নিয়ে শুনানি শুরু করুন।”

এমন নয় যে, এই প্রথমবার দিল্লির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন মমতা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি একই চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিশেষ সাফল্য পাননি। তবে সেবার বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিল কংগ্রেস। এবার মমতা সেই জায়গাটা নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে মোদীর বিরুদ্ধে বিরোধী-মুখ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন। এটা সেই লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ।

তিনি ঘোষণা করেছেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে গরিবদের বিনা পয়সায় খাদ্যশষ্য দেয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে কী কী জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণও দেন তিনি। তার দাবি, গুজরাট নয়, বাংলাই হলো উন্নয়নের মডেল।

মমতাও পুরো ভাষণেই মোদী, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন। কখনো পেগাসাস নিয়ে, কখনো করোনা নিয়ে। মমতা বলেছেন, ”রাজ্যে রাজ্যে খেলা হবে। বিজেপি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন খেলা হবে।”