মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : শ্রোতা দর্শকের কাছে ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা কিংবা ভাওয়াইয়ার রাজকুমার নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি। বলছি সফিউল আলম রাজার কথা।

বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই  ‘রাজা’র ৪৭তম জন্মবার্ষিকী। “ও মোর কালারে, ওপারে ছকিলাম বাড়ি” তাঁর গাওয়া এই গানের কথাগুলো খুব দ্রুতই যেনো মিলে গেলো। তিনি গেয়েছিলেন “কয়দিন বাদে আসিয়া, ও মোর কবর দেখিয়া যান”। এ-কি নিমন্ত্রণ ছিলো নাকি ব্যাথার কথায় সুর বেঁধে নিছক কষ্ট ভোলার চেষ্টা! বড্ড একলা মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গানের স্কুলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পৃথিবী ত্যাগের সেই চূড়ান্ত সামাধায় পরিবার, বন্ধুজন, স্বজন কেউ ছিলো না পাশে। বুঝি একলা মানুষ, হাওয়ার ফানুশ একলাই আসা যাওয়া।

এইযে তাঁর একলার একা জীবন, সে এক বিষম বিতর্ক! প্রিয়জন শুধু কি প্রয়োজনেই সঙ্গ হয়, নাকি কেউ কেউ স্বেচ্ছায় সঙ্গিহীন জীবন চায়, সফিউল আলম রাজার এই সমীকরণটা কেমন যেনো অসম, অমিমাংসীত, অধরা…….

মানুষ মরে গেলেই স্মৃতি হয়ে যায়। ফ্রেমে বন্দি ছবি হয়ে যায়। মৃত্যুই সত্য, মৃত্যুই চিরন্তন। তবু কিছু মানুষের প্রয়াণ আমরা মানতে পারি না। কিছু মানুষের না থাকা আমরা কখনোই ভুলতে পারি না।

প্রখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা অমন একজন সুন্দর প্রিয়জন আমাদের। তিনি নেই তবু মনে হয় তিনি আছেন, এইযে তাঁর “কবর দেখিয়া যান, ওপারে ছকিলাম বাড়ি, মনটায় মোর পিঠা খাবার চায় কিংবা দোতোরা, ফুলবালা, মঈষাল অথবা সেই ১০১টা পাত্রী”র গান, এগুলো যেনো নিত্যই বাজছে চতুর্দিকে!

তিনি গেয়েছিলেন “ইচ্ছে আছিল বন্ধুর সাথে বানম সুখের ঘর, মনের হাউসে ঘুরিয়ে বেড়ামো চিলমারীর বন্দর” এই চিলমারীর বন্দর নিয়ে তাঁর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিলো।

তিনি চেয়েছিলেন ঠিক শান্তি নিকেতনের আদলে এই চিলমারীতেই (রাজার জন্মস্থান) একটি ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট হোক। তাঁর অকাল প্রয়াণে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে।

রাজাদের মৃত্যু হয় না, রাজারা যুগ থেকে যুগান্তরে, মন থেকে মনান্তরে, থেকে যায়, পৃথিবীময়! সফিউল আলম রাজা বেঁচে থাকবেন তাঁর অজস্র ভক্ত শ্রোতাদের হৃদয়ে, বিদায়ে নয়, বরং শিল্পকর্মে, গান এবং গল্পে।