ফাইল ছবি

কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় রোববার মধ্যরাত থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৩৮টি জেলায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।

অভিযান বাস্তবায়নকালে ২০টি জেলা তথা ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ও বাগেরহাট জেলার নদ-নদী, মোহনা ও সাগরে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

অপর ১৮টি জেলা তথা নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলার নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে রোববার মধ্য রাত থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা মেনে ঝালকাঠির জেলেরা ইতোমধ্যেই জাল ও নৌকা নদী থেকে উঠিয়ে রাখছেন। অনেকে বাড়ির সামনে নদীর তীরে বেঁধে রেখেছেন ইলিশ ধরার নৌকা। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নদীতীরে ও জেলে পল্লী এলাকায় সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, জেলায় ৬ হাজার ৮০০ তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। যারা সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরা যাবে না জানিয়ে মাইকিং করেছে মৎস্য বিভাগ। টানা ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা করা হবে বলেও জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ।

ঝালকাঠি জেলার বিশখালি, সুগন্ধা ও গাবখান নদীর বিশাল এলাকার জলসীমায় দিন-রাত জেলেদের আটকে রাখা কঠিন কাজ। প্রতি বছর জেলা ও ৪টি উপজেলার আওতাধীন নদীতে প্রসাশন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে আসছে। এই সময়ে ৬৮০০ নিবন্ধিত জেলের বাইরে একশ্রেণী বহিরাগত যারা এই জেলায় বাসিন্দা এবং তারা বিভিন্ন অঞ্চলে খন্ডকালিন পেশার সাথে জড়িত, তারা এই সময়ে মাছ ধরার জন্য নেীকা ও জাল কিনে মোবাইল কোর্ট এড়িয়ে মাছ আহরণ করে। ২২ দিন পর এরা যেখান থেকে এসেছিল সেখানে গিয়ে স্ব-পেশায় নিয়োজিত হয়। এই সকল মেীসুমি জেলেরা গ্রাম এলাকায় অবস্থান করে গ্রামের মধ্যে মাছ বিক্রি করে।

মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত এক শ্রেণীর ব্যাক্তি গ্রাম এলাকায়ই মাছ কেনা-বেচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। মৎস অধিদপ্তর বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেন এবং কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রকৃত জেলেদের অভিযোগ তারা কষ্ট করে ২২ দিন মাছ আহরণে বিরত থাকবেন তবে এই মেীসুমি জেলেরা যাতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারিরা কোন রাজনৈতিক ছত্রছায়া না পায় এবং প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় এটাই তাদের দাবি।