মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দিনমজুর স্বামী’র লাশ বসতবাড়ির রান্নাঘরে ফেলে রেখে গাঢাকা দেওয়া সেই স্ত্রী কোকিলা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে পাশর্^বর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (১ আগষ্ট) সকালে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চত করেন থানা পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টা গাঢাকা দিয়ে রয়েছিল ওই দিনমজুরের স্ত্রী। নিহত দিনমজুর স্বামী আবু সালেহ ফরাজী (৫০) মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর মিঠাখালী গ্রামের মৃত বারেক সুফির ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, শনিবার শেষ রাতের কোন এক সময় স্বামী আবু সালেহর লাশ পাকের ঘরে ফেলে রেখে তার তৃতীয় স্ত্রী কোকিলা বেগম আত্মগোপন করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামী কোকিলা বেগমের অবস্থান নির্ধারণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে (কোকিলা বেগম) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এ হত্যাকান্ডের সাথে কে বা কাহারা জড়িত রয়েছে। পরবর্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঠবাড়িয়া থনার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, ৩০ জুলাই শনিবার সকালে উপজেলার উত্তর মিঠাখালী নিহত আবু সালেহর পাকের ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহতের প্রথম সংসারের মেয়ে সালমা আক্তার লিপি বাদি হয়ে শনিবার দুপুরেই মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবু সালেহ’র তিনটি বিয়ে রয়েছে। তৃতীয় স্ত্রী কোকিলা বেগমের সাথে প্রায়ই কলহ বেঁধে থাকতো। কিন্তু তার বাড়িটি আলাদা হওয়ায় পরিবারের অন্যরা কেহ সেখানে যেতেন না। শুক্রবার গভীর রাত একটি গরু বিক্রির টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলছিলো।

শনিবার সকালে প্রতিবেশী এর নারী রান্না ঘরের মেঝেতে তার লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার রাতে নিহতের লাশ পারবারিক কবরস্থনে দাফন করা হয়।