মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় যুবলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রেদোয়ান গোলদার (৩৮) কে ৯০ বছরের জুলেখা খাতুন নামের বৃদ্ধার আইডি কার্ডে সোমাইয়া আক্তার (৩৪) এর নাম ব্যবহার করে ভুয়া কাবিনমানার মাধ্যমে যৌতুকের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলেনে এ অভিযোগ আনেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার ও উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা শাহ আলম দুলাল, পৌর আ’লীগের সহ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফিরোজ হোসেন লিটন, উপজেলা সেম্বচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ভুত্তভুগি স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে রেদোয়ান বলেন, তাঁর মরহুম পিতা আজিজুল রহমান গোলদার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তুষখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও আমৃত্যু সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। রেদোয়ানও ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়াও তিনি বরিশাল বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্থানীয় প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়পতিপন্ন করতে অচেনা অজানা এক ৯০ বছরের জুলেখা খাতুন নামের বৃদ্ধার আইডি কার্ডের নাম্বার (১৪৭১৬৫০২১৬) ব্যবহার করে সোমাইয়া আক্তার (৩৪) এর নাম বসিয়ে বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিমের আমলী লবনচরা থানা আদালত, খুলনা যৌতুকের সাজানো মামলা (৯৫-২২ তাং ২৭-০৪-২০২২ ইং) দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রেদোয়ানের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ গত ২৩ শে জুলাই গভীর রাতে রেদোয়ান গোলদারের তুষখালীর ছোট মাছুয়া বসত বাড়িতে থানার এসআই আবুল বাসার ও এসআই নুরুজ্জামের নেতুত্বে ১০ জনের একটি পুলিশ সদস্যের দল গ্রেফতারের জন্য যায়।

এ সময় রেদোয়ান গোলদার বাড়িতে না থাকলেও পুলিশ দরজা, জানালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। পরে বিধবা মা দরজা খুলে দিলে আলমারি, ওয়ারড্রোয়ার ও মালামল তছনছ করে এবং একটি কমলা রঙের সাইড ব্যাগ নিয়ে যায়। যার ভিতরে তাঁর মরহুম পিতার মূল্যবান কাগজপত্র ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন।

রেদওয়ান দোলদার গত ৪ আগষ্ট সংশ্লিষ্ঠ আদালতে জামিনের আবেদন করেন এবং সোমাইয়া নামের কারো সাথে বিয়ে হয়নি এছাড়া ওই কাবিননামার কাগজপত্র বানোয়াট বলে বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহা. নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, পুলিশি হয়রানী, আলমারি, ওয়ারড্রোয়ারের মালামল তছনছ এবং ব্যাগ নেয়ার বিষয়টি মিথ্যা বানোয়াট দাবী করে বলেন, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ পেয়ে পুলিশ রেদোয়ানকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়।