রমেছা খানমের নির্বাচনী পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত    

কালিহাতি (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : ২ বছর আগে বিলি করেছিলেন কম্বল। এবার ভোটে হেরে গিয়ে সেই কম্বলই কেড়ে নিলেন এক মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী। শীত যখন বাড়ছে, তখন এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কম্বল হারানো ওই মানুষেরা। যদিও ওই মেম্বার প্রার্থীর দাবি, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

ভোটে জিততে প্রার্থীরা কত কিছুই না বিলি করেন। নিন্দকেরা বলেন, মাছ-ভাত খাওয়ানো থেকে শুরু করে নগদ টাকা বিলানো, এমনকি কাপড়ও বিলি করেন অনেকে। কিন্তু ভোটে হারের পর সে সব ফেরত নেওয়ার কথা তেমন ভাবে শোনা যায় না। এমনই এক আজব ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে।

রমেছা খানম বছর দুয়েক আগে শীতকালে আকুয়া গ্রামের মকবুল হোসেন, অনু মিঞা, শঙ্কু ও বঙ্কু নামে চারজনকে চারটি কম্বল দিয়েছিলেন। সেই কম্বল গায়ে দিয়ে তারা দুই শীত পার করেছেন।

রমেছা খানম এবার ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন- বড় ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন। কিন্তু রোববারের ভোটে হেরে যান রমেছা। অভিযোগ, এর পরেই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে শঙ্কু-বঙ্কুদের কাছ থেকে চারটি কম্বলই ফেরত নিয়ে নেন তিনি।

রমেছা খানম যাদের কম্বল বিলিয়েছিলেন, তারা সবাই ভোটে জয়ী প্রার্থী জ্যোৎস্না বেগমের প্রতিবেশী। রমেছার সন্দেহ, ভোটে জ্যোৎস্নার হয়ে জান উজাড় করে খেটেছেন ওই চার জন।

ভোটের বেলায় জ্যোৎস্না আর কম্বলের বেলায় রমেছা! সেই রাগেই ২ বছর আগে বিলানো কম্বল ফিরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

এদিকে, শীতের শুরুতে এভাবে কম্বল হারিয়ে কষ্টে স্তব্ধ অনু মিঞার প্রশ্ন, ‘‘গরিবের প্রতি ওর মনে কোনো মায়া দয়া নেই! এই কারণেই কেউ তাকে সমর্থন করেননি।’’

যদিও কম্বল ফিরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মোটেই মানতে চাননি রমেছা। তার পাল্টা দাবি, ‘‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। বিরোধীদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।’’