বগুড়া অফিস : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় এক ভূমিহীন নারীর জমি জবরদখলকারী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার গ্রামের মৃত বাসর উদ্দিনের কন্যা মোছা. ছকিনা বেগমের বিবাহ হয়েছে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত গাজি বেপারীর সাথে। তাদের জায়গা-জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তার বসবাসের ঘরবাড়ি নাই। পূর্বতেকানির আউচারপাড়া চরে তার ছেলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাহেরুল অন্যের জায়গায় বাস করে। তিনি এই প্রতিবন্ধী ছেলের সংসারে থাকেন। ছেলেটি দিনমজুর।

প্রতিবন্ধীতার কারণে তাকে লোকজন কাজে নিতে চায় না। নানা কারণে মাঝে-মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বন্যা, বর্ষা-বাদলের সময় অত্যন্ত কষ্টে তাদের থাকতে হয়। তার স্বামীর সহায়-সম্পদ নাই। ছকিনা পিতার ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত মধূপুর মৌজায় ১৯ শতক জমির মালিক বলে জানান তার মেয়ে লাভলী বেগম।

সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রধান ওরফে বাদল ছকিনার ১৯ শতক জমি জবর দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন লাভলী।

ছকিনা গুরুতর অসুস্থ, শয্যাশায়ী ও চলাফেরা করতে পারেন না। তার স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে লাভলী বেগমও তার ১ প্রতিবন্ধি মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে তার কাছে থাকে।

এ ব্যাপারে ছকিনা বেগম সোনাতলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বগুড়ার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তদন্ত নোটিশের জবাবে মো. নজরুল ইসলাম প্রধান বাদল স্বশরীরে হাজির হয়ে গত ৮ অক্টোবর ২০২০ জবাবন্দীতে বলেন, তিনি উক্ত জমি দখল করেননি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জবরদখল করা জমির ওপর ইটসহ নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করেছেন বলে তার মেয়ে লাভলী বেগম অভিযোগ করেন।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভূমি জবরদখলকারী নজরুল ইসলাম প্রধান ওরফে বাদল মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থি হয়েছেন।

বাস্তুভিটাহীন ছকিনা বেগমের মাথা গোঁজার ঠাই নেই। তিনি ভূমি জবরদখলকারী নজরুল ইসলাম প্রধান ওরফে বাদলের নিকট থেকে তার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আইনি ও মানবিক সহায়তা চেয়েছেন।