বন্যা তালুকদার, পাথরঘাটা (বরগুনা) : ভিমরুলের কামড়ে ৮দিন অচেতন ছিল শিশু ঐশ্বর্য (৪)। অবশেষে শনিবার বেলা ১০টার দিকে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করলো সে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মা এবং অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে সে বাড়ির কাছে ঘুড়তে গিয়ে ভীমরুলের কামড়ে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। তাৎক্ষণিক তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখানে ৩দিন চিকিৎসার পরেও তার জ্ঞান ফিরে না আসায় শিশু ঐশ্বর্যকে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। বরিশাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ঐশ্বর্যের বাবা গৌতম জানান,ঢাকার চিকিৎসক তার শিশুপুত্রর দুটি কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে এবং আইসিউতে রাখার নির্দেশ দিলে তারা ঐশর্যকে নিয়ে একটি প্রাইভেট কিডনি হাসপাতালে যান। সেখানে দালালের খপ্পরে পরে অচেতন শিশুসন্তানকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। অক্সিজেন দিয়ে দীর্ঘ সময় রাখার পরে বাড়িতে সামন্য জল ও খাবার খাওয়ানো হয় তাকে।

পুনরায় আবার ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক জানান,শিশু ঐশ্বর্যর দুটি কিডনি এবং লিভার নষ্ট হয়ে গেছে।

আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। অবস্থার অবনতি দেখে শনিবার সকালে ফের পার্শ্ববর্তী উপজেলা মঠবাড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনেরা। সেখানে সকাল দশটার দিকে ঐশ্বর্য মৃত্যুবরন করে। দুপুর পৌনে ১২টায় পাথরঘাটার বড়ইতলা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় শিশু ঐশ্বর্য মরদেহ।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় পাথরঘাটা হাসপাতালে ডাক্তাররা শিশুটির চিকিৎসায় অবহেলা করেছেন ।

শিশু ঐশ্বর্যকে হারিয়ে মা মনিকা রানী বাবা গৌতম পাগল প্রায়। খবরটি ছরিয়ে পরলে শতশত গ্রামবাসী বাড়িটিতে ভীড় জমায়।