হুমায়ুন কবির জুশান, কক্সবাজার : অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে ভারতের একটি রাজ্যে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর দেশটির আদালতে মুক্ত হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করে থাকে আটক রাখা হয়েছে। তখনকার করোনাকালীন সময়সহ বিভিন্ন কারণে ওই আপিল শুনানি হচ্ছে না। যদিও সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার বলছেন পুরো বিষয়টি রাজনীতি। এ কারণেই মামলার শুনানিতে বিলম্ব হচ্ছে।

পরিবারের দাবি ভারত সরকার সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে আপিলের শুনানি করছে না।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালেলর ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তখন থেকে দীর্ঘ ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর একই বছরের ১১ মে তাকে সর্বপ্রথম মানসিক বিপর্যয় অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিঙ্ক মাঠে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে প্রথমে শিলং মানসিক হাসপাতালে পরে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনে বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরে শিলং জেলে পাঠায়। শিলং শহর ছেড়ে না যাওয়ার শর্তে আদালত পরে সালাউদ্দিন আহমেদকে জামিন দেন। তখন থেকে নির্বাসিত অবস্থায় দীর্ঘ ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে খাসিয়া-খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা শিলং শহরের বিষুপুরে সানরাইজ গেস্ট হাউজ নামক একটি দোতলা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি।

মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সালাহউদ্দিন আহমেদদকে বেকসসুর খালাস দেন শিলংয়ের আদালত। বিচারক তাকে দ্রুত সব রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার জন্যে নির্দেশ দেন। আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই গত ২৭ এপ্রিল সালাহউদ্দিন আহমেদ শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একটি নোটিশ পান। নোটিশে নিম্ন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে উল্লেখ করে আপিল মামললায় জেলা ও দায়রা জজ তাকে আদালতে হাজির হতে বলেন। পরে তিনি শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল মামলায় যথারীতি হাজিরা দিয়ে আসছেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্টজনের কাছ থেকে জানা যায়, তার শরীর ভালো না। বিভিন্ন রোগ ভর করছে। চিকিৎসাও চলছে। আপিল কোর্টে পেনডিং আছে। কোনো শুনানি হচ্ছে না। কবে শুনানি হবে কোনো ধারণা নেই। কবে মামলা শেষ হবে, কবে দেশে ফিরতে পারবে- তা কী করে বলব। এগুলেলা পলিটিক্যাল ব্যাপার। ডিটেইলস বলতে চাই না।

তবে টেলিফোনে তার অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছে তার। নির্জনে সারা দিন পড়াশুনা করে সময় কাটান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ নিম্ন আদালতে জামিনে আছেন। এখন উচ্চ আদালতে শুনানি হচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া এলাকার জননন্দিত নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার জন্যে তার ব্যাকুলতা ও মন কাঁদে সব-সময়। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদের দুই ছেলে দুই মেয়ে। সন্তানরা দেশের বাইরে থাকেন। বড় ছেলে দেশের বাইরে চাকরি করেন। তারা মাঝে মধ্যে বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান ভারতে।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি আমাদের খোঁজ রাখেন। আমরা অপেক্ষা করছি কখন তিনি দেশে আসবেন। বিএনপি পরিবারের সদস্যরা সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্ধারের দিনটিকে শুকরিয়া দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাললাহউদ্দিন আহমেদ। চারদলীয় সরকারের আমলে তাকে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতে থাকা অবস্থায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় তাকে।