কলকাতার এক ঈদগাহ ময়দানের ছবি। বৃষ্টিতে ভিজেও যেখানে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন। সংগৃহীত 

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ভারতের কোনো কোনো রাজ্যে যেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হানাহানির খবর পাওয়া যায় তখন ‘বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণে’ ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই বোন৷ দেড় কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের চার বিঘা জমি মুসলিমদের ঈদগাহের জন্য দান করেছেন তারা৷

তাদের এ দৃষ্টান্ত স্থানীয় মুসলিমদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, ঈদের নামাজের পর মোনাজাতে ওই মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করেছেন তারা৷

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উদম সিং নগর জেলার ছোট শহর কাশিপুরে এ ঘটনা ঘটেছে৷ ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে যখন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হানাহানির খবর পাওয়া যায় তখন দুই বোনের এ দৃষ্টান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে৷

ওই দুই বোনের বাবা ব্রজানন্দন প্রসাদ রাস্তোগী ২০ বছর আগে মারা যান৷ মারা যাওয়ার আগে স্থানীয় ঈদগাহ সম্প্রসারণের জন্য নিজের কৃষি জমি থেকে চার বিঘা দান করার ইচ্ছার কথা নিকট আত্মীয়দের জানিয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু নিজের শেষ ইচ্ছার কথা সন্তানদের জানানোর আগেই ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে তার মৃত্যু হয়৷

ব্রজানন্দন প্রসাদ রাস্তোগীর দুই কন্যা সরোজ ও অনিতা৷ একজন থাকেন দিল্লিতে ও অন্যজন মিরাটে৷ সম্প্রতি আত্মীয়দের মাধ্যমে বাবার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে পারেন তারা৷

তারা তখনই কাশিপুরে বসবাস করা তাদের ভাই রাকেশ রোস্তোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে তার সম্মতি চান, রাকেশ সঙ্গেসঙ্গেই রাজি হয়ে যান৷

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করার পর রাকেশ রাস্তোগী বলেন, বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব ছিল৷ আমার বোনেরা যা করেছে তাতে তার আত্মা শান্তি পাবে৷

স্থানীয় ঈদগাহ কমিটির সদস্য হাসিন খান বলেন, ওই দুই বোন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের জীবন্ত উদাহরণ৷ তাদের এ সহৃদয়তার জন্য ঈদগাহ কমিটি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে৷ তারা যা করেছেন তার জন্য ওই দুই বোনকে শিগগিরই সংবর্ধনা দেওয়া হবে৷

মঙ্গলবার ভারতের এক রাজ্যে যখন দুই হিন্দু বোনের দান করা জমিতে মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করছেন তখন দেশটির আরেক রাজ্য রাজস্থানের যোধপুরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গার শঙ্কায় পুলিশ পাহারায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে