শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : ভারতের আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাই হওয়া বাংলাদেশের ৯০ জেলের মধ্যে ৪০ জনের দেশে ফেরতের ছাড়পত্রের খবরে অপর ৫০ বাংলাদেশী জেলে কাকদ্বীপ আশ্রয় কেন্দ্রে অনশনে বসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব জেলেদের দেড় মাস আগে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ভারতীয় জেলেরা উদ্ধার করেছিলো।

ভারতের কোলকাতা থেকে “ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিসারমেন এ্যাসোসিয়েশনের” সেক্রেটারী জয় কৃষন হালদার শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, প্রায় দেড়মাস যাবৎ পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা ৯০ বাংলাদেশী জেলের মধ্যে ৪০জন জেলেকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠাতে ২৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ সচিব অরুনিমা দে স্বাক্ষরিত এক নোটিশ জারী করেছেন।

৪০ জেলের ছাড়পত্রের খবর জানতে পেরে সে দেশের কাকদ্বীপে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অপর ৫০জন বাংলাদেশী জেলে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনশনে বসেন। ঐ জেলেদের অনশনে বসার খবর পেয়ে কাকদ্বীপ মহকুমার সরকারী উর্ধতন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার রাতে অনশনরত জেলেদের শীঘ্রই স্বদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাদের অনশন ভঙ্গ করান বলে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিসারমেন এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জানিয়েছেন।


বাংলাদেশের ৪০ জেলেকে ফেরৎ পাঠাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিঠি। (ভারত থেকে হোয়াটসআপে প্রাপ্ত)

পশ্চিমবঙ্গের সাউথ সুন্দরবন ফিসারমেন এন্ড ফিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সেক্রেটারী হারাধন ময়রা এবং কাকদ্বিপ ফিসারমেন ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সহসেক্রেটারী মেঘনাথ দাস দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশী জেলেদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবী জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশী জেলেরা খুবই মানসিক কষ্টে রয়েছেন এবং তারা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এসব জেলেদের বাড়ী বাংলাদেশের পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলায় বলে জানা গেছে। এদের থাকা খাওয়ার তত্বাবধান করছেন পশ্চিমবঙ্গের চারটি মৎস্যজীবি সংগঠন। গত ১৯ আগষ্ট বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে বাংলাদেশী অনেক ফিশিংবোট সাগরে ডুবে যায়। ভারতীয় জেলেরা ও সে দেশের কোষ্টগার্ড ভারতীয় জলসীমায় সাগরে ভাসমান মোট ১২২ জন বাংলাদেশী জেলেকে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ৩২ জনকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারতীয় কোষ্টগার্ড।