খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : ফুটবলের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা- ভারতের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তৃতীয় পক্ষের অযাচিত প্রভাব’ আছে ভারতের ফুটবল ফেডারেশনের নানা সিদ্ধান্তে।

ফিফা যেসব মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ফুটবল ফেডারেশনগুলো চালায়, তার একটি- ফুটবল ফেডারেশনের ওপর কোনও ধরনের আইনী বা সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা যাবে না।

উনিশশো পঁয়ত্রিশ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের এই ফুটবল সংস্থা দেশটির সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত চলতি বছরের মে মাসে অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেছিল।

ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স ভারতের ফুটবল সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করতে একটি দল পাঠিয়েছিল।

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্সের মহাসচিব উইন্ডসর জন এই আলোচনায় অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সাথে সম্মত হয়েছিলেন, যে জুলাই মাসের মধ্যে ফিফার দেখানো পথে ভারতের ফুটবলের আইন সংশোধন করবে এবং সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সকল নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে তারা যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, তারা আশা করছে সামনে আলোচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে।

ফিফার গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতে যেসব টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ছিল সেগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন হবে, একই সাথে ভারতও যেসব টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার কথা সেখানে অংশ নিতে পারবে না।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ভারতে অনুর্ধ্ব ১৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল, এই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ থাকছে না ভারত। অক্টোবরের ১১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্ধারিত ছিল।

ভারতের নারী ও পুরুষ জাতীয় দল এমনকি বয়সভিত্তিক দলগুলোও কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই অংশ নিতে পারবে না।

ভারতের ফুটবল ক্লাবগুলোও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্সের নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ, এএফসি কাপ, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ- এই সব টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না।

তবে ভারতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ, আই-লিগের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে না এই নিষেধাজ্ঞার। এই আসরগুলো যেভাবে শিডিউল করা ছিল সেভাবেই চলবে।

তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ২০২৩ সালের এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স কাপে অংশ নিতে না পারা।

ভারত ইতোমধ্যে এই কাপের বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু আপাতত ফিফার অধীনে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামতে পারবে না ভারত।

গত কয়েক মাস ধরেই ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি পেয়ে আসছিল সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। বেশ কয়েকটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংস্থাটির গভর্নিং বডির কাছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ২৯ অগাস্টের মধ্যে ৩৬টি রাজ্য থেকে ফেডারেশনের সদস্য ও ফুটবলারদের নির্বাহী কমিটি বাছাই করতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া তারা সময়মতো বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স ৫ অগাস্ট চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত’ ফিফা ও ভারতের ফুটবল সংস্থার সম্মত হওয়া রোডম্যাপের লঙ্ঘনের সামিল।

ভারতের ক্রীড়া লেখক জয় ভট্টাচার্য্য টুইট করেছেন, “কদিন আগেও ভারতের ফুটবল নিয়ে একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, ৫ বছর আগে অনুর্ধ্ব ১৭ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে আমরা সফরে ছিলাম এই সময়ে। আর আজ ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা।”

এদিকে ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে যদি অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের চলতি নির্বাহী কমিটির ক্ষমতা বাতিল করা হয় এবং প্রশাসকদের ভিন্ন একটি কমিটি দেয়া হয়।

এই মাসের শুরুতে ভারতের আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার আদেশ দেয় এবং এই নবনির্বাচিত কমিটি তিন মাসের জন্য অন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবে।

ফিফার আইন অনুযায়ী, কোনও ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যরা অবশ্যই কোনও আইনী বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে নির্বাচিত হতে হবে।