ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিংগুরিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় স্বামীকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের নামে পিরোজপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী শিরিন বেগম (৪০)।

গতকাল সোমবার শিরিন বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী জাকারিয়া খান (৪৫) সম্পদ লোভী দুশ্চরিত্র লোক। বিবাহের পর থেকে চরিত্রহীন যেনেও স্বামীর ঘর সংসার করছেন। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে যৌতুক লোভী স্বামী তার বাবার বাড়ী থেকে নানা অজুহাতে টাকা নিয়েছে। তার পিতার মৃত্যুর পরে তিনি পৈত্রিক ১৩ শতক সম্পত্তি প্রাপ্ত হন এবং মায়ের ২য় স্বামীর মৃত্যুর পর তার নিকট থেকে .৮ শতক সম্পত্তি তাকে ও তার স্বামীর নামে স্ত্রী শিরিনের মা রেজিষ্ট্রী করে দেয়। উক্ত সম্পত্তির মধ্য থেকে ১৩ শতক সম্পত্তি স্বামীর চাপে বিক্রি করে ঘটনাস্থলে সম্পত্তির উপর একখানা কাঠের টিনসেট ফ্লোর পাকা ঘর নির্মান করে। তাতে সন্তানদের নিয়ে তারা উভয় স্বামী-স্ত্রী বসবাস করছিলেন। কিন্তু তার স্বামী কোন কাজকর্ম না করিয়া তার অপর .৮ শতক সম্পত্তি বিদেশে যাওয়ার কথা বলে বিক্রি করে আত্মসাৎ করে এবং তাদের বসবাসকৃত ঘরটিকে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে।

তাতে বাধা দিলে স্বামীর সাথে কলহ শরু হয়। বসতঘর বিক্রি করতে না পেরে বাবার বাড়ী থেকে যৌতুক বাবদ দুই লাখ টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

শুধু তাই নয় তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে একই গ্রামের কাওছার হাওলাদার (৪৬), সেকেন্দার হাওলাদার (৫০), শুকুর আলী খান (৫৫), নাজমুল হোসেন (২০) এর সহযোগিতায় সম্প্রতি জনৈক সুলতানের দোকানের সামনে তাকে মারপিট করে।

এ ঘটনায় তাদেও নামে ভান্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ১১ জুলাই রোজ সোমবার রাত আড়াইটার দিকে বসত ঘরের পাশে লোকজনের হাটা-চলার শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় স্ত্রী শিরিনের, তখন তিনি দেখেন তার স্বামী ও অন্য ব্যক্তিরা মিলে তাদেও ঘরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

তাদের দেয়া আগুনে মুহুর্তের মধ্যে ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভানোর কাজ শরু করে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শিরিন বেগমের দাবী, আগুন লাগানোর মুহুর্ত তিনি টের না পালে তিনি সহ তার সন্তানরা নির্ঘাত পুড়ে মারা যেতো। তারা পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ছিলো। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তারা মামলা নিতে রাজী হয়নি আসামী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায়।