ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর তেলিখালী গ্রামে বিভিন্ন মামলার আসামী ছগীর গাজী নামে এক বখাটের যৌন হয়রানী, ইভটিজিং ও নির্যাতনে শিকার একাধিক ছাত্রী ও নারী। ওই গ্রামে তার অত্যাচারে এখন অনেক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বয়সের নারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

তার নির্যাতনের ফলে অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেও মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে করে দিয়েছে।

উক্ত ছগীর গাজীর নামে ভুক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ করলে তাদের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন ও নিপিড়ন। এক প্রকার গ্রামবাসী তার হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাই গ্রামবাসী ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা বলে গুনজন রয়েছে।

ছগীর গাজী (৪০) উপজেলার উত্তর তেলিখালি গ্রামে আমির গাজীর বড় ছেলে।

মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, এই ছগীর গাজী একাধীক নারীকে বিয়ে করে অনেক নারীর জীবন শেষ করেছে এবং অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার ভাই জসিম গাজী এলাকার বেশ কয়েক পরিবার, বহু নিরিহ জেলে পরিবারে ওপর নির্মম নির্যাতন সহ বহু অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তারা দিনদিন অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে দলবল নিয়ে। তাদের মত তার বাবাও অত্যাচারী ছিলো বিদায় তার বাবা এলাকায় নির্মম ভাবে খুন হন।

উক্ত ছগীর গাজী পারিবারিকভাবে ভয়ংকার এবং এখন তাদের অত্যাচারে বেশ কয়েক বাড়ীর লোকজন স্ব-পরিবারে এলাকা ছাড়া হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

ছগীর সহ তাদেও গংদের অত্যাচার থেকে বাচাঁর জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের সু-দৃস্টি কামনা করেছেন। ওই গ্রামের আঃ জলিল হাওলাদারের স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, তার মেয়ে জাহানারা আক্তার স্থানীয় বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ট শ্রেনির শিক্ষার্থী। কিন্তু সন্ত্রাসী ছগির গাজীর নজরে পড়ায় প্রতিনিয়ত ইভটিজিং শিকার সহ কু প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার ভয়ে মেয়ে মাদ্রাসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তার কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় কিছুদিন পূর্বে আমাদের বাড়ী গিয়ে লাঠি দিয়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করে সন্ত্রাসী ছগীর গাজী।

উত্তর তেলিখালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার খান জানান, চাকুরীর সুবাদে আমি বাড়ী থাকি না। স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে একা বাড়ী থাকায় উক্ত বখাটে প্রায়ই রাতে আমার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখায় এবং উত্যক্ত করে আসছে।

এ ছাড়াও আমার প্রতিবন্ধী বিবাহিত ভগ্নিপতিকে স্বামী থেকে ছাড়িয়ে এনে উক্ত সন্ত্রাসী ছগীর গাজীর নিকট বিবাহ দিতে প্রস্তাব করলে আমরা রাজী না হলে ছগীর গাজী আমাকে ও আমার ভগ্নিপতিকে লাঞ্চিত করেন।

এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে গত ৬ অক্টোবার দুপুরে আমার ছোট ছেলে, শিশু শিক্ষার্থী তাইমিয়া বীন আনোয়ার খান (৯)-কে বুকে পিঠে হাতুরি পেটা করে হত্যার চেষ্টা চালায় ছগীর গাজী ও তার ভাই জসিম গাজী।

এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় ছগির গাজী ও তার ভাইয়ের নামে হত্যা চেষ্টায় দায়ে মামলা করেন শিশুটি বাবা। ওই গ্রামের হাফসা বেগম ও পারুল বেগম জানান, ছগীর গাজী যৌন হয়রানীতে এই এলাকার স্কুল পড়ুয়া অনেক মেয়েরা স্কুলে যেতে পাড়ছে না। পথে ঘাটে ইভটিজিং করছে। তারা আরো জানান,এলাকার অল্প বয়সী নারী ও গৃহবধুদের কু-প্রস্তাব দিচ্ছে উক্ত বখাটে ছগির গাজী। কথা না শুনলে রাতে মাদক সেবন করে ভিবিন্ন বাড়ীর দরজা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দিয়ে ইজ্জত লুটে নিচ্ছে এবং দাড়ালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।

৮৫ বছরের বৃদ্ধ আলাউদ্দীন জানান, ওই ছগীর গাজী মাদক সেবন করে রাত দিন গ্রামের মেয়ে সহ বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের যৌন হয়রানী করে আসছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বারবার জানালেও তার বিচার কেউ করতে পাড়ছে না। ওই গ্রামের আউয়াল মুন্সীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম উক্ত বখাটে ছগীর গাজীর নামে ২০১৪ সালে নারী ও শিশু ২২৬/১৪ মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়ে। তার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন । ফলে তিনি এখন গ্রাম ছাড়া হয়েছেন

ওই গ্রামের আঃ রব মাতুব্বরের স্ত্রী তুকিয়া বেগম (৪০) জানান, সন্ত্রাসী ছগীর গাজী বিরুদ্ধে আমি লুটপাটের মামলা করেছি। যাহা আদালতে চলমান। ছগীর গাজী কয়েক বছর পূর্বে আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায় এবং আমার স্বামীকে ভয়ভীতি দিয়ে এলাকাছাড়া করে। গত ১৫ সালের ১৪ জুলাই সকালে আমার হাত পা বেধেঁ ছগীর গং ঘরে থাকা ধান, চাল, স্বর্নালংকার ও বিভিন্ন মালামাল সহ ২ লাখ ৯২ হাজার টাকার জিনিস পত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং বাগানের ফলজ গাছপালা কেটে ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করে ও আমাকে মেরে ফুলা জখম করে তারা।

এ ঘটনায় ছগীর গাজী সহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে মামলা করি। কয়েক বছর পূর্বে ওই গ্রামের গৃহবধু লাভলী বেগম ও তার ছেলে বাবুকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসী ছগীর গাজী। তার অত্যাচারে এখন ওই পরিবার গ্রাম ছাড়া। তাদের বসত ভিটা ও বাড়ী এখন ছগীর গাজীর দখলে রয়েছে। নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, উক্ত ছগীর গাজী ইতিপূর্বে ৬/৭ টা বিয়ে করেছে। তার অত্যাচার ও নির্যাতনে জীবন নিয়ে তারা পালিয়েছে।

তবে, স্ত্রীদের মধ্যে একজন মারা গেছে। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছগীর গাজীর বাড়ীতে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ভাই জসিম গাজী জানান, তার বড় ভাই একাধীক বিবাহ করেছে কিন্তু এখন একটাও নেই।

একাধীক স্কুল ছাত্রী ও নারীদের ইভটিজিং সহ যৌন হয়রানির অভিযোগ ও একটি শিশুকে হাতুরী পেটা সহ গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচারের কথা জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে তেলিখালী ইউনিয়নের পুলিশ ফাড়ির ইনর্চাজ এসআই নুর আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুনেছি উক্ত ছগীর গাজী খুব বাজে লোক। আমি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।