তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ : শবে বরাতের ভাগ্য রজনীতেই হঠাৎ বৃষ্টিতে স্বস্তি নেমে আসে জনজীবনে। এতে করে ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে মানুষজন। বৃষ্টির কারণে ধূলাবালি থেকেও কিছুটা নিস্তার মিলেছে।

সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসলের ধানক্ষেতে নতুন বের হওয়া ধানের শীষে বৃষ্টিস্ণাত হওয়ায় কৃষকের মুখে কিছুটা হাসি ফুটেছে। চৈত্রের পচন্ড তাপদাহে বৃষ্টির আগমন প্রকৃতিতে প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে পরিবেশের ভারসম্য অনেকটা ফিরিয়ে দিয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে শবে বরাতে ভাগ্য রজনীতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আকাশে ছিলো মেঘের ঘনঘটা, সাথে হালকা দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি। বিদ্যুতের অসা-যাওয়ার ভেলকিবাজীতে কর্মব্যস্ততা ও বাসা বাড়িতে দেখা দেয় দুর্ভোগ। রাতভর মেঘাছন্ন আকাশে ঘনঘটা জানান দিয়েছিলো বৃষ্টিসআত হবে সুনামগঞ্জের জমিন।

রাতেই জেলা সদরসহ জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা জেলার বিভিন্ন হাওরে বৃষ্টি হওয়ায় জনমনে স্বস্থি ফিরে আসে। বিগত কয়েক মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে জেলার সব ক’টি উপজেলায় ধূলোয় ধূসর ছিল রাজপথ ও গ্রামের মেঠো পথগুলো। গাঁয়ের পায়ে-হাঁঠার মেঠোপথ, হাট-বাজারের পুরো চেহারাও বদলে গছে। যেসব বৃক্ষ নতুন পাতা গজাতে শুরু হয়েছে এক নিমিশেই সতেজতা ফিরে পেয়েছে, আর হাওরের বোরো ফসলের মাঠ সবুজ সতেজ হয়ে ওঠেছে বৃষ্টির কারণে। কৃষককের মুখে ফুটেছে মুচকি হাঁসি।

বছরে একটি মাত্র বোরো ফসলকে ঘিরেই হাওরাঞ্চলের মানুষের যত স্বপ্ন। বহু প্রতিক্ষা ও ত্যাগের পর কৃষকদের বছরজুড়ে থাকা অভাব-অনটন আর জমাট বাঁধা দুঃখ-কষ্ট পেরিয়ে এবার কিছুটা হলেও হাঁসি ফুটেছে তাদের মুখে। সুনামগঞ্জের বোরো ফসল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

হাওরের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে স্বপ্নের জাল বুনছেন তারা। প্রতি বছরের মতো এবারো হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প কমিটির (পিআইসি) চরম গাফিলতি লুটপাটের ধান্দার কারনে সোনালী ফসল ঘরে ওঠবে কি-না তা নিয়ে শংসয়ে রয়েছেন ফসল নির্ভর হাজার-হাজার কৃষক ও গৃহস্থ পরিবার। নিয়ম অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময় পার হলেও জেলার অনেক বাঁধে প্রকল্পের কাজ শেষে করতে পারেনি। এ নিয়ে কৃষকদের মনে রয়েছে দুশ্চিন্তা।