আল মামুন সরকার ও মোঃ শফিকুল আলম       

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী মোঃ শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে মানহানির জন্য ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং মানি মোকদ্দমা-০৩/২২)। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিবাদীকে ২০২৩ সালের ১৫জানুয়ারি জবাবদানের জন্য সমন জারি করেছেন।

মামলার ফাইলিং আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট এম. তারিক হোসেন জুয়েল। তার সাথে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানবীর ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুল, প্রবীণ আইনজীবী আবু তাহের, অ্যাডভোকেট মিন্টু ভৌমিকসহ প্রায় অর্ধশত আইনজীবী।

মামলার আরজিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের দু’দিন আগে গত ১৫অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ শফিকুল আলম কটাক্ষপূর্ণ, আপত্তিজনক ও মানহানিকর লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন যা পরদিন (১৬অক্টোবর) বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া ওইদিনই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও প্রচারিত হয়। তিনি দাবি করেন, এতে আল মামুন সরকার এবং তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুন্নসহ মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আল মামুন সরকার গত ৩অক্টোবর তার নিয়োজিত আইনজীবী এম. তারিক হোসেন জুয়েলের মাধ্যমে আইনি নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ চেয়ে ছিলেন যা ওই দিন থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছিলো। কিন্তু উল্লেখিত সময়ের মধ্যে শফিকুল আলম কোন সাড়া না দেওয়ায় আল মামুন সরকার আদালতে এ মামলা করেন।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট এম. তারিক হোসেন জুয়েলে সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও পরাজিত প্রার্থী শফিকুল আলম জানান, তিনি এখনো কোন নোটিশ পাননি। পাওয়ার পর তা আইনিভাবেই মোকাবেলা করবো। অনেক টকশোতেই অনেক কথাবার্তাই তো হয়। সবাই কী মামলা করেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমতা দিয়েছেন, কেউ যদি দরবার করে কী আর করার আছে।