খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বেলজিয়ামের শহর ভাভিয়াজের রাস্তায় শুনশান নীরবতা৷ বেজে উঠেছে সাইরেন৷ পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হঠাৎ বন্যায় দুইশ’র কাছাকাছি মানুষ মারা গিয়েছেন৷ নিহতদের স্মরণে বেলজিয়াম পালন করছে রাষ্ট্রীয় শোক৷

বন্যার পানির এমন তাণ্ডব জীবিতদের মধ্যে কেউ প্রত্যক্ষ করেননি৷ পশ্চিম ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বন্যায় আক্রান্ত হলেও হতাহত ও ক্ষতির পরিমাণ জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি। তারপরেই রয়েছে বেলজিয়াম৷

জার্মানিতে কমপক্ষে ১৬৫ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। বেলজিয়ামে অন্তত ৩১ জন৷ এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে হতাহতের খোঁজ করছেন৷

বেলজিয়ামে গত কয়েকদিনে টেলিফোন ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়েছে৷ এরপর অনেকের খোঁজ মেলায় নিখোঁজের সংখ্যা কমেছে৷ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ধ্বংসযজ্ঞের আসল চেহারা বোঝা যাচ্ছে৷ বাড়িঘর ভেঙে গেছে, নানা জায়গায় একটার ওপর আরেকটা গাড়ি পড়ে আছে৷

স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিলে স্বেচ্ছাসেবীরা ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজে হাত দিয়েছেন৷ কিন্তু সব আগের অবস্থায় ফেরানো মোটেই সহজ নয়৷

বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপে এবং প্রধানমন্ত্রী ভেরভিয়াস পরিদর্শনে গিয়েছেন৷ এই শহরটিই বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ তাদের উপস্থিতিতেই স্থানীয় সময় দুপুর বারোটা এক মিনিটে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা সাইরেন বাজান৷ এরপরই দেশজুড়ে পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা৷

রাজধানী ব্রাসেলসে সব বাস-ট্রাম-মেট্রো ট্রেন এক মিনিটের জন্য থেমে থাকে৷ জাপানের টোকিওতে অবস্থান করা বেলজিয়ামের অ্যাথলিটরাও যোগ দিয়েছেন এই শোক পালনে৷

দেশটির সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে৷ ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দপ্তরে ইইউ-এর পতাকাও অর্ধনমিত ছিল৷