আধ্যাত্মিকতা বস্তুজীবনের অপরিহার্য সহচর

শেখ বিবি কাউছার

বর্তমানে মানুষ ভোগবাদী এবং প্রগতিশীল জীবনযাত্রার জেলে আবদ্ধ। আমরা মানুষরা ভুলে যেতে বসেছি যে আমাদের প্রত্যেকের একটি আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে। আমরা চাইলেই আমাদের আত্মা থেকে দূরে সরে যেতে পারি না। আমরা জেনে বা না জেনে এক কৃত্রিমতার মধ্যে নিজেদের বিলিয়ে দিতে বেশি ভালোবাসছি। বিশ^বিখ্যাত লেখক ব্রাজিলের লেখক পাওলো কোয়েলহোর দ্য আলকেমিস্ট বইটি মানুষকে ইংগিত দিয়েছেন ‘আধ্যাত্মিকতাকে বস্তুজীবনের অপরিহার্য সহচর করে নিতে। চট্টগ্রামের ‘বাতিঘর’ থেকে বইটির অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্ময় নন্দী। অনুবাদ গ্রন্থে মূল রচনার স্বাদ পাওয়া যাবে এই বইয়ে। সব মিলিয়ে বিশ্বসাহিত্যের এক অনুপম সম্পদ হাতের নাগালে এনে দিয়েছেন অনুবাদক।

পাওলো কোয়েলহোর পরিচয় : পুরো নাম “পাওলো কোয়েলহো ডি সুজা’। জন্মগ্রহন করেন ১৯৪৭ সালের ২৪ আগষ্ট ব্রাজিলে। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, গীতিকার, ভ্রমণকারী, অভিনেতা, সাংবাদিক ও নাট্য নির্দেশক। তিনি দ্যা আলেকেমিস্ট, দ্যা পিলগ্রিমেজ, রিড়া, দ্যা ভালকাইরিস, দ্যা ফিফথ মাউন্টেন, ইলেভেন মিনিটস, এডালটারী, দ্যা যাজির, আলেফসহ অনেক বিখ্যাত গ্রন্থের জনক। তিনি নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর একজন গুণী লেখক।

দ্য আলকেমিস্ট : বইটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত আর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। পর্তুগিজ ভাষায় বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ব্রাজিল, ১৯৮৮ সালে। এই বইটির অভাবনীয় সাফল্যের অন্যতম কারণ এ উপন্যাসের কাহিনীর পটভূমি। কেন্দ্রীয় চরিত্র মেষপালক সান্তিয়াগোর প্রাত্যহিক জীবনের বর্ণনা পাঠককে তাঁদের নিয়মিত জীবনের মেলবন্ধন তৈরিতে সাহায্য করে। মেষপালক সান্তিয়াগো আন্দালুসিয়া থেকে স্বপ্ন দেখা থেকে মিশরের পিরামিডে গুপ্তধন খুঁজতে গিয়ে যাদের সাথে সাক্ষাৎ হয় তাদের সাথে জীবন ও আত্ম উন্নয়নমূলক অনেক আলোচনা হয়। সে আলোচনাই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।

ছেলেটি (মেষপালক) আলকেমিষ্টকে বললো, “ভেবেছিলাম আপনি কিছু শেখাবেন কিন্তু মরুভূমির পথ পাড়ি দিয়েও কিছু শিখতে পারিনি।। আলকেমিস্ট বললেন, “শেখার একটাই পথ কর্মের মাধ্যমে। ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছু তুমি শিখে ফেলেছো।” আলকেমিস্ট আরো বলেন, ‘তুমি তোমার ‘হৃদয়’ থেকে কখনো পালিয়ে থাকতে পারবে না। তাই তার কথা শোনা-ই বরং ভালো। আর শুনলে, সে কখনো তোমার পিঠে ছুরি মারবে না। ’

এখানে আলকেমি হচ্ছে, ‘বিশ্বের আত্মা’য় প্রবেশ করা এবং তোমার জন্য সংরক্ষিত গুপ্তধন আবিষ্কার করা।
বিশ্বে যা কিছু চোখের সামনে দেখো, সেসব ঈশ্বরের দৃশ্যমান অংশ মাত্র। আর এই জাগতিক বিষয়াদির সাথে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের সংযোগ ঘটায়- আলকেমি।

আলকেমিস্ট হচ্ছেঃ এমন একজন- যে প্রকৃতি ও বিশ্ব বোঝে। গুপ্তধনের ভান্ডার খুঁজে পেয়ে ছেলেটা ভাবল, “এটা সত্য। যারা ‘নিজস্ব কিংবদন্তি’তে পৌছাতে চায়, জীবন তাদের প্রতি সত্যিই উদার।”

জীবনে যতক্ষণ আপনি শিখবেন ততক্ষণ আপনি জীবিত। শেখার জন্য সব সময় সামনে এগিয়ে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে হয়। কাজের আগ্রহ হারাতে না চাইলে জলদি একঘেয়েমি দূর কর। আবার উল্লেখ করছি, আমরা যদি সত্যি মন থেকে কিছু চাই, পুরো বিশ্ব আমাদের সে চাওয়াকে পূর্ণ করতে চাইবে।

দ্য আলকেমিস্ট নিজের ভেতর এক ধরনের অনুধাবন তৈরি করে, যা জীবনের দৃষ্টিভংগি পরিবর্তনে বেশ সহায়ক। গল্প বলার আড়ালে যখন ভয়াল উপাদান মজুত থাকে, তা বহু অবিশ্বাসীর মনেও শিহরন জাগায়।
বিল ক্লিনটন,জুলিয়া রবার্টস,উইল স্মিথ, ম্যাডোনাসহ বিশ্বের অনেক সফল ব্যক্তিগণ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যারা বই পড়তে ভালোবাসেন কিন্তু দ্য আলকেমিস্ট এখনো পড়েননি,পড়ে ফেলুন। ভালো লাগবে।

লেখক : শেখ বিবি কাউছার, প্রভাষক -ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ , রাউজান, চট্টগ্রাম।