খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : কখনো পাহাড়, কখনো সাগর, কখনো বা রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ- এমন পথে গাড়ি নিয়ে ছুটতে সবারই নিশ্চয় মন চাইবে৷ বিশ্বের এমন ১০টি রুটের বর্ণনা৷


রুট ৬৬ : সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত হাইওয়ে ছিল এটি৷ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ছিল এটি৷ ১৯২৬ সালে চালু হওয়া এই হাইওয়ে ১৯৮৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়৷ তবে এখনো এটি পর্যটকদের কাছে প্রিয়৷ এখন পুরো রাস্তা একেবারে পাড়ি দেয়া সম্ভব না হলেও রাস্তার কিছু অংশে গাড়ি চালানো সম্ভব৷


আইসফিল্ডস পার্কওয়ে : ক্যানাডার রকি পর্বতমালার ভেতর দিয়ে এই হাইওয়ে চলে গেছে৷ চলতি পথে গ্লেসিয়ার, ঝরনা, ভ্যালি আর মনোরম কিছু লেকের দেখা পাওয়া যায়৷ তবে এই পথে গ্যাস স্টেশনের সংখ্যা একটু কম৷ যাত্রা শুরুর আগে এই বিষয়টি মাথায় রাখা ভালো৷


প্যান-অ্যামেরিকান হাইওয়ে : প্রায় ২৫ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়ে মোটামুটি অ্যামেরিকা মহাদেশের পুরোটা জুড়ে রয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ও দক্ষিণ অ্যামেরিকার সবচেয়ে দক্ষিণের টিয়েরা ডেল ফুয়েগো দ্বীপপুঞ্জকে সংযুক্ত করা এই হাইওয়ে প্রায় ২০টি দেশের উপর দিয়ে গেছে৷ স্বাভাবিকভাবে এই রাস্তায় চলতে গিয়ে ভিন্ন আবহাওয়া, ঘন জঙ্গল, মরুভূমি, পর্বতমালা ইত্যাদির দেখা পাওয়া যায়৷ ছবিতে পেরুর এক মরুভূমি দেখা যাচ্ছে৷


রুট দেস গ্রান্ডেস আল্পেস : সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভার টনো-লে-বা ও ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মাওটোর মধ্যে প্রায় সাতশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথের সৌন্দর্য্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই৷ ফ্রেঞ্চ আল্পসের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ জুন ও অক্টোবরের মধ্যে খোলা থাকে৷

রসফেল্ড প্যানোরোমা রোড : জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের পাহাড়ি এলাকার মধ্য দিয়ে চলে গেছে এই পথ৷ সারা বছরই এই রাস্তা ব্যবহার করা যায়৷ এই পথের বিভিন্ন অংশ থেকে ট্রেকিংয়ের বিভিন্ন রুট চলে গেছে৷ সে কারণে হাইকারদের কাছেও এই পথ প্রিয়৷


আমালফি কোস্ট ড্রাইভ : ইটালির আমালফি উপকূল ধরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এই পথ চলে গেছে৷ একপাশে খাঁড়াই পাহাড়, অন্যপাশে গল্ফ অফ সাল্যার্নোর সৌন্দর্য্য৷ আর কী চাই!


চ্যাপম্যানস পিক ড্রাইভ : দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূল ধরে চলে গেছে এই পথ৷ কেপটাউনের হাউট বে ও নুর্ডহোককে যুক্ত করা এই রাস্তা বিশ শতকের শুরুতে নির্মাণ করা হয়৷


গ্রেট ওশান রোড : অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণপুবের উপকূল ধরে চলা এই পথে গাড়ি চালানোর সময় ‘টুয়েলভ অ্যাপোসলস’ নামে পরিচিত চুনাপাথরের স্ট্যাক চোখে পড়ে৷ আরও আছে পথের দুই ধারে বৃক্ষশোভিত বীথি৷


স্টেট হাইওয়ে ৮ : নিউজিল্যান্ডের লেক টেকেপো ও লেক পুকাকির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তা ধরে এগোতে থাকলে একসময় দেশটির সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট কুকের দেখা পাওয়া যায়৷ রাস্তার পাশের দৃশ্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থানে ‘ভিউয়িং স্পট’ আছে৷


কাতু-ইয়ারিক পাস : বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পাহাড়ি পথ রাশিয়ার কাতু-ইয়ারিক পাস৷ দক্ষিণের আলতাই রিপাবলিক এলাকায় অবস্থিত এই পাসের দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন কিলোমিটার৷ ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেন এটি বিপজ্জনক৷ আবার এটাও বোঝা যাচ্ছে ঐ পথে চলতে গিয়ে কী দৃশ্য দেখা যাবে৷