খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সোমবার ২৮ জুন থেকে সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে সরকার। বিধিনিষেধ চলাকালীন সরকারি-বেসরকারি সমস্ত অফিস-আদালত, মিল-কারখানা, শপিং মল, দোকানপাট, গণপরিবহন সবকিছু বন্ধ থাকবে। গত বছরের মার্চে সংক্রমণ শুরুর পর সাধারণ ছুটি দিয়ে অফিস আদালত এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কিন্তু তখন এক পর্যায়ে গার্মেন্টস মালিকদের দাবির মুখে এই খাতের কারখানা খুলে দেয়া হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ এলেও গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করা হয়নি।

এবার কী করা হবে- সে প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে গার্মেন্টস খোলা রাখার পক্ষেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক দিক থেকে যাতে বড় ক্ষতি না হয়, সেটাও সরকার বিবেচনায় রাখছে। রপ্তানির যে বিষয় আছে, তা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। মানুষকে ঘরে রাখতে হলে প্রথম শর্তই হচ্ছে, দিনের কাজের ওপর নির্ভরশীল বা একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষকে সহায়তা দেয়া। সে ব্যাপারে দেশের প্রতিটি এলাকায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। যাতে তাদের কোন কষ্ট না পেতে হয়।”

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের সময় গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন মালিকরা।

গার্মেন্টস খোলা রাখার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে মালিকরা বলছেন, গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গ্রামে যেতে চাইবে। এ কারণে গার্মেন্টস খোলা রাখা জরুরি।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমি মনে করি- পোশাক কারখানা এই লকডাউনের বাইরে থাকবে। কারণ তৈরি পোশাক কারখানা যদি বন্ধ করা হয়, তাহলে গার্মেন্টস কর্মীরা তখন গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করবে, বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এটা সবাই জানে, ছুটি পেলেই শ্রমিকরা গ্রামের দিকে রওনা দেন। এতে করোনার প্রকোপ আরো ছড়িয়ে পড়বে। গ্রাম-শহর একাকার হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, কারখানা বন্ধ রাখা যতটা না উপকার, তার চেয়ে খোলা রাখাই বেশি উপকার। বন্ধ হলে অর্ডার বাতিল হবে, বায়াররা (বিদেশি ক্রেতা) চলে যাবে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ কমে যাবে।