ময়মনসিংহ অফিস : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এই সরকারের অধিনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠ হয়নি, হবেও না। বিএনপি নির্বাচন না করলে ইভিএম কোনো কাজে আসবে না, ইভিএম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি আপনাদের কর্তব্য কাজটা সঠিকভাবে করতেন তাহলে এদেশে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন হতো না, নারী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন হতো না। আপনাদের কাজ অপরাধীদের ধরা। আপনাদের কাজ শেখ হাসিনার পক্ষে রাতের বেলায় ভোটে সীল মারা না। আপনারা কর্তব্য কাজ সঠিকভাবে পালন করুন, জনগণ আপনাদের সহযোগিতা করবে। এবার আমরা নির্বাচনে অংশ না নিলে এই পোষাক পড়ে সীল মারতেও পারবেন না।

তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আপনাদের আন্দোলন শুরু হলো। আন্দোলনের জন্য আর ডাক দেয়ার প্রয়োজন নাই। যেখানেই অন্যায়, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেদিন সারাদেশে একযোগে রাস্তায় নামবেন সেদিন আন্দোলনের জন্য দিনক্ষণ তারিখের প্রয়োজন হবে না।

প্রতিবেশিদের উদ্দ্যেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভোটটা হতে দেন। ভোটের পর বিএনপি সরকার আসলে আপনারা কী কী কথা আছে, সেটা বলেন। তখন আপনাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বটা থাকবে কী থাকবে না এটা নিয়ে আলাপ করেন। আমরা আবার বলছি আমাদের প্রতিবেশি দেশসহ বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব অনিবার্য। কিন্তু আমরা কারো কর্তৃত্ব মানবো না। আমরা সৎ প্রতিবেশি সূলভ বন্ধুত্ব চাই। আমরা সুসম্পর্ক চাই কিন্তু কর্তৃত্ব চাই না। আমাদের প্রতিবেশীরা যতই লম্ফযম্ফ করুক, বহুদিন আপনাদের বহন করেছে। আর বহন করবার শক্তি তাদের আছে বলে বিশ্বাস করি না। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। প্রতিবাদ করতে গিয়ে আর মার খাব না, কোন আক্রমণ হলে সাথে সাথে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ করতে হবে।

রোববার বিকেলে নগরীর নতুনবাজার বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, উত্তর জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, নূরুল কবির শাহীনসহ দক্ষিণ-উত্তর ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা সত্য কথা বলে ফেলছে। কারা দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার করেছে ওবায়দুল কাদের তা বলে দিয়েছেন। তাদের মাথার ওপরের ছায়া সরে গেছে, পতন নিশ্চিত। এই সরকারের উপর এখন আর কারও বিশ্বাস নেই। তারা লুটেরা-মিথ্যাবাদী দলে পরিণত হয়েছে।