খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ জানুয়ারি সারা দেশের বিভাগ ও মহানগরে সকাল ১০টা দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

বিএনপির ঢাকা মহানগরীর কর্মসূচি নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পালন করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই ঘোষণা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা জনগণের পক্ষে ১০ দফা ঘোষণা করেছি। তারই প্রথম কর্মসূচি হলো গণমিছিল। আজকে এসব দফার প্রতি দেশের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং জোট সমর্থন জানিয়েছে। আমাদের ১০ দফার মূল হলো- অবিলম্বে গায়ের জোরের সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজকে বিএনপির গণসমাবেশ থেকে জনগণ অংশ নিয়ে আওয়াজ তুলেছে অবিলম্বে এই সরকাররে পদত্যাগ করতে হবে। তাদেরকে আর জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এজন্য তারা গণতন্ত্র হত্যা করে দেশ চালাচ্ছে। তাদের সাথে জনগণ নেই।

বিএনপি নেতা বলেন, আজকে সরকারি দলের লোকেরা বিদেশে টাকা পাচার করে ব্যাংকগুলো শূন্য করে ফেলেছে। অর্থনীতি ধ্বংসের শেষ সীমানায় চলে গেছে। দেশে বিচার বিভাগ দলীয়করণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলেছে। তাদের দ্বারা অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, কোনো স্বৈরাচার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এরশাদ পারেনি। আইয়ুব খান পারেনি। এই আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়াশী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এসে দেখে যান বিএনপির সাথে জনগণ আছে কী নেই? আজকে পাড়া মহল্লায় পাহাড়া দিয়েও জনগণকে ঘরে আটকে রাখা যায়নি। বিএনপি ১০ দফা আদায়ে আরো শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করবে। গণতান্ত্রিকভাবেই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। এই সরকারকে বিদায় করতে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ সময় তিনি অবিলম্বে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেফতারকৃত সকল রাজবন্দী ও নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

খন্দকার মোশাররফের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই ১৩টি স্পটে জমায়েত হয়ে বিএনপির গণমিছিল শুরু হয়।


গণতন্ত্র মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধী দল ও জোটের যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরে তিন ঘণ্টার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাতটি রাজনৈতিক দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ।

ভাসানী আনসারী পরিষদের আহ্বায়ক ও জোটের নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল শুক্রবার তাদের গণমিছিল থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, বানোয়াট, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, প্রতিম দাসসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে ১১ জানুয়ারি তারা সব বিভাগে গণঅবস্থান করবেন।

ঢাকায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান বাবুল।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গণতন্ত্র মঞ্চ মিছিল বের করে।

মিছিলটি পল্টন মোড় ও বিজয় নগর সড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। এ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভবিষ্যতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা বলেছি এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হোক। নির্বাচনের আগে এবং তার পরে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছে; আমরা ১৪ দফা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল একটি আলোচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই দফাগুলো আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা জনগণের কাছে এগুলো উপস্থাপন করব।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক দিন। এই সরকার রাতের আঁধারে ভোট লুটপাট করে রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করেছে।

২০১৮ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বরকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল ও জোট।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপিসহ প্রায় ৩৩টি সমমনা রাজনৈতিক দল আজ রাজধানীতে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করছে।