খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের মানুষ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যার কারণে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত তখন বিএনপির হীন রাজনৈতিক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।

বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এমন ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার পরিত্যাগ করুন। দুর্যোগের সময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন।

রোববার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বিএনপি নেতারা মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করছেন। তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যার কারণে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত ঠিক এ সময়েই মির্জা ফখরুলের হীন রাজনৈতিক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএনপির আচরণ খুব অমানবিক।

দুর্যোগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ থেকে বিরত থাকতে বিএনপি নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানাচ্ছি অন্তত এই দুর্যোগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকুন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এমন ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার পরিত্যাগ করুন। দুর্যোগের সময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন।

তিনি বলেন, অতীতে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বিএনপির পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ জনগণ দেখেনি। শুধুমাত্র বিএনপি নেতারা লিপ সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে মিথ্যাচারের রাজনীতি করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সৃষ্ট বন্যার কারণে মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ স্থানীয় প্রশাসন মানুষের কষ্ট লাঘবে সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের জন্য ৬০০ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে। বানভাসি মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে মনিটরিং টিম ও মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পানিবন্দী মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও স্যালাইনের পাশাপাশি রান্না করা খাবারও বিতরণ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।

তিনি বলেন, বন্যার পানি দ্রুত নামিয়ে যাতে মানুষের কষ্ট লাঘব করা যায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। কোন রাস্তার কারনে পানি নামতে বাধা পেলে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেই রাস্তা কেটে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেছেন। বন্যার পানি নেমে গেলে এই তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে দেশের সকল মানুষের উচিত দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে থাকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বন্যার্তদের নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতি শুরু করছে। দুর্গত মানুষকে নিয়ে পরিহাস করছে। সিলেটের বন্যা কোনো মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার অতীতের যে কোন সরকারের চেয়ে সফলতা অর্জন করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতা বিশ্বসভায় প্রশংসিত হয়েছে।