এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়ন। প্রতিনিয়ত গড়াই নদীর বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘড়বাড়ি।

গত পাঁচ বছরে নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা, বাকসাডাংগি ও জামসাপুর গ্রামের পাচ শতাধিক বসতবাড়ি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,পাবা রাস্তা, মসজিদ, কবরাস্তান ও ঈদগা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখনও হুমকির মিখে রয়েছে মরাবিলা সরকারি প্রাথমিক স্কুল, একটি মাদ্রাসা, মসজিদসহ শতশত বসতবাড়ি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ভাংগন মোসুমে জনপ্রতিনিধিরা পরিদর্শনে এসে স্থায়ী বেরিবাধ নির্মানের আশ্বাস দিলেও শুস্ক মওসুমে কোন কাজ করা হয়না।তবে বর্ষায় ভাঙ্গন শুরু হলে তরিঘড়ি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে, তাতে নদীর পার ভাঙ্গন ঠেকছে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও নদী সংলগ্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে শনিবার নদী তীরে মানববন্ধন করেছেন।

আজ শনিবার দুপুরে নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা গ্রামে নারুয়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ও মরাবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে মরাবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে ঘি-কমলা হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া স্থানীয় মো. মুহিদুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম ও মো. হাবিব বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ইতোমধ্যে নারুয়া ইউনিয়নের গড়াই নদীর তীরের কয়েক হাজার ঘরবাড়ী, পাঁকারাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গড়াই নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

অব্যাহত ভাঙনে বহু পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুক হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন সহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভাঙন বেড়েই চলছে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে নারুয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ শত শত ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।