চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি দখলে নিতে জন্মদাতা পিতার বিরুদ্ধে নিজ সন্তানকে মৃত দেখানো অভিযোগ করেছেন ছেলে এমরান হোসেন জহির।

এ ব্যাপারে বাবা আহাম্মদ উল্যা বেপারীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন তিনি। শনিবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাবার এসব কুকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করলেন সেই ‘মৃত ছেলে’!

শুক্রবার ওই মামলায় বাবাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সেই মৃত ছেলে এমরান হোসেন জহির প্রকাশ ঝুটন।

পিতার বিরুদ্ধে কেন মামলা দায়ের করতে বাধ্য হলেন, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতেই শনিবার সকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী এমরান হোসেন জহির প্রকাশ ঝুটন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমরান হোসেন জহির প্রকাশ ঝুটন জানান, তিনি তার বাবা আহাম্মদ উল্যা বেপারী প্রথম স্ত্রী খুরশিদা বেগমের ছেলে। এই ঘরে তার আরেক বোন খাদিজা বেগম লাকি বর্তমানে যিনি মৃত। আমার মায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাবা এবং সেই ঘরে সৎ মা এবং তিন বোন রয়েছেন।

জন্মের পর থেকে আমি পিতার আদর স্নেহ ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হলেও জীবিকার টানে প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে পিতার সার্বক্ষণিক দেখভাল করেছি। তাকে খোরপোষ বাবদ টাকা এবং সৎ বোনের বিয়ে এবং বাবার চোখের অপারেশরে জন্য টাকা দিয়েছি।

কিন্তু আমার সেই জন্মদাতা বাবা আমাকে মৃত দেখিয়ে গত ২০১০ সালে ৮ আগস্ট আমাদের স্থানীয় ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তৎকালিন চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী ও সচিবের স্বাক্ষরে নিজের নামে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। একই তারিখে তিনি আমার বোন খাদিজা বেগম লাকির মৃত্যুর সনদ দেখান। এরপর নিজেকে একক ওয়ারিশ দেখিয়ে সনদ গ্রহণ করেন।

ফলে আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও আমার পিতার কাছে আমি মৃত। জন্মদাতা পিতা হয়ে তিনি কিভাবে শুধুমাত্র সম্পত্তির লোভে নিজের ঔরসজাত সন্তানকে মৃত দেখালেন!

এমরান হোসেন জহির আরো বলেন, শুধু তাই নয়, তিনি তার পিতার একমাত্র সন্তান দাবি করে তথা আমার ৫ (পাঁচ) ফুফুর অস্তিত্ব অস্বীকার করে গত ২০১০ নালের ২৭ অক্টোবর একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একই চেয়ারম্যানের কাছে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। জাল জালিয়াতির এমন নজির আমি অদ্যবদি দেখিনি।

তিনি বলেন, আমি প্রবাস থেকে গত দেড় মাস আগে দেশে ফিরে আসার পর ফুফু কর্তৃক আমাকে দান করা ও আরেক ফুফু থেকে ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বাধার সম্মুখিন হই। এক পর্যায়ে এর কারণ জানতে গিয়ে বাবার এসব কুকর্মের কথা জানতে পারি। এলাকায় এ বিষয়ে কয়েকবার আমাদের স্থানীয়ভাবে সালিশি হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায়, আমি বাধ্য হয়ে গত ১৮ নভেম্বর চাঁদপুর আদালতে অভিযোগ করি।

পরে আদালতের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। ওই দিন রাতেই আমার পিতাকে আটক করে। পরদিন শুক্রবার পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। এরপর আদালত আমার বাবাকে জেল হাজতে পাঠান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এমরান হোসেন জহির প্রকাশ ঝুটনের মা খুরশিদা বেগম, স্ত্রী মুক্তা আক্তার, ফুফাতো বোন সরলা বেগম, ফুফাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম, সেলিম পাটওয়ারী, দেলোয়ার হোসেন এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সোহেল ঢালী ও সামছুল আরেফিন মুকুলসহ অনেকেই।