বাগমারা প্রতিনিধি : বাগমারার নরদাশ ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের ভূমিদস্যু মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধীর ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগমারা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রতিবন্ধী বাবুল হোসেন দাবি করেন, ভূমিদস্যু মোজাম্মেল হক সাঁইধারা গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং গ্রাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

গ্রামের একক আধিপত্য ধরে রাখতে তার নেতৃত্বে গ্রামে রয়েছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা সর্বদায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে।

সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ওই গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার। গ্রামের প্রতিবন্ধীসহ নিরীহ লোকজনকে মারপিট, জমি দখল, গোরস্থান দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর। সব কিছুই চলে মোজাম্মেল হকের ইশারায়।

সন্ত্রাসী মোজাম্মেল হকসহ তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পুরো গ্রামের লোকজন। গত ২৩ এপ্রিল রাতে মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জাফর আলীসহ প্রায় ১০ জন গ্রামবাসী।

ভুক্তভোগীরা জানান, মোজাম্মেল হক এলাকায় জমি ক্রয়ের নামে তান্ডব শুরু করেছেন। তিনি একজনের জমি ক্রয় করে অন্য জনের জমি দখল করেন। জমি ক্রয়ের নামে ওই গ্রামের এক প্রতিবন্ধী বাবুল হোসেনের গোরস্থানের জমিও দখল করতে বাদ রাখেননি। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে মারপিট করা হয়।

তাদের অনেকেই বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাফর আলী, আইনাল হক, নুরুল ইসলাম, নওসাদ আলী, আরশাদ আলী, সুশীল চন্দ্র ও চন্দন কুমার প্রমূখ।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। উভয় পক্ষই আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এলাকায় শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে পৃথক মামলায় উভয় পক্ষের ১৯ জন জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।