আবু বাককার সুজন, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামের ২০ শতাংশ সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে এক সেনা সদস্য, মসজিদ কমিটি এবং এলাকার কয়েকটি ভুমিহীন পরিবারের লোকজন এখন মুখোমূখি অবস্থান নিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ওই তিনটি পক্ষের মধ্যে এখন ত্রিমূখী উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রয়নে রাখতে হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ।

শুক্রবার দুপুরে সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিন কৌড় মৌজায় জেএল নং-৬৪ এর ৪৬৩ ও ৩৯২ নং খতিয়ানের ৪ নং দাগে তেবাড়িয়া গ্রামে মোট ২০ শতাংশ লায়েক পতিত (ভিপি প্রপার্টি) সরকারি খাস জমি রয়েছে।

ওই জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ধামিন কৌড় ও তেবাড়িয়া গ্রামের ৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের জন্য আশ্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে তাদের সুষ্ঠু স্বাভাবিক জীবন যাপনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদন করা হয়।

এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পক্ষে আবেদনকারীরা হলেন ধামিন কৌড় গ্রামের মৃত তছির উদ্দিন সরদারের ভূমিহীন ছেলে লোকমান আলী এবং তেবাড়িয়া গ্রামের মৃত বলাই সরকারের ছেলে মহির উদ্দিন, লোকমান আলীর স্ত্রী গৃহহীন জাহানারা বিবি, আহসান হাবিবের ছেলে এস. এম শাহার আলী, আলেপ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও খুশবর আলীর ছেলে রুবেল হোসেন।

এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত সার্বিক উন্নয়ন ও ইসলামী জ্ঞান চর্চার মডেল মসজিদে রুপান্তরিত করার লক্ষে তেবাড়িয়া গ্রামের তিনটি জামে মসজিদের উন্নতি কল্পে ওই সম্পত্তি ইজারা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে আবেদন করা হয়।

ওই তিনটি মসজিদ কমিটির পক্ষে আবেদনকারীরা হলেন- তেবাড়িয়া শাহজিপাড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি কাজেম উদ্দিন, তেবাড়িয়া দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি ইনতাজ আলী এবং তেবাড়িয়া শাহজিপাড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে মৃত বাদল শাহ’র ছেলে আলিমুদ্দিন শাহ।

এদিকে তেবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান নামে এক সেনা সদস্য তার কোনো পৈত্রিক সম্পত্তি নাই মর্মে দাবি করে ওই সম্পত্তি লিজ নেয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদন করেছেন। তার আবেদন দাবি করা হয়েছে-তিনি দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে আসছেন। তার বাবা-মা কেউ জীবিত নেই। তার কোনো পৈত্রিক সম্পত্তি নেই। তাছাড়া দীর্ঘ চাকুরী জীবনে বৈদেশিক মিশনে গমণ করতে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি জায়গা জমি ক্রয় করতে পারেননি।

তাছাড়া ৩৯২ নং খতিয়ানের ৪ নং দাগে ২৪ শতাংশ জমি ১৯৬৯ সালে রাজকুমার সরকারের ছেলে বিজয় নাথ সরকার তার বাবাকে ভোগদখলের দায়িত্ব দিয়ে ভারতে চলে যান। কিন্তু এরপর তিনি আর ফিলে আসেননি। কাজেই উল্লেখিত সম্পত্তি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি মর্মে আবেদনে দাবি করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে ওই জমির দখল নিয়ে সেনা সদস্য সাইদুর রহমান, তিনটি মসজিদ কমিটি এবং এলাকার কয়েকটি ভুমিহীন পরিবারের লোকজন এখন মুখোমূখি অবস্থান নেয়ায় তিনটি পক্ষের মধ্যে এখন ত্রিমূখী উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তাছাড়া ওই জমিতে সাইদুর রহমানের লাগানো পাকা ধান কাটতে বাঁধা দেয়া এবং ওই গ্রামের সাহার আলীর লাগানো কলা গাছ ও সজনে গাছের আগা কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় বাগমারা থানায় দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন- অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রয়নে রাখতে হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।