বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে ২০ শতক সরকারি খাস জমি দখলে নিতে অভিনব কৌশল শুরু করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য। জমিটি দখলে নেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। অথচ কলেজ শিক্ষক কাজেম উদ্দীন ওই জমিতে টিনের চালা তুলে রেখেছেন বলে উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। জমিটি অবৈধভাবে দখলে নিতেই এই ধরণের অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিন কৌড় মৌজায় জেএল নং-৬৪ এর ৪৬৩ ও ৩৯২ নং খতিয়ানের ৪ নং দাগে তেবাড়িয়া গ্রামে ২০ শতক লায়েক পতিত (ভিপি প্রপার্টি) জমি রয়েছে। ওই জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকায় তেবাড়িয়া গ্রামের তিনটি জামে মসজিদের উন্নতি কল্পে ওই সম্পত্তি ইজারা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।

ওই তিনটি মসজিদ কমিটির পক্ষে আবেদনকারীরা হলেন- তেবাড়িয়া শাহজিপাড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি কাজেম উদ্দিন, তেবাড়িয়া দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি ইনতাজ আলী এবং তেবাড়িয়া শাহজিপাড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে আলিমুদ্দিন শাহ। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে তেবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য তার কোনো পৈত্রিক সম্পত্তি নাই মর্মে দাবি করে ওই জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে ওই জমির দখল নিয়ে সাইদুর রহমান ও তিনটি মসজিদ কমিটির লোকজন মুখোমূখি অবস্থান নেয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তেবাড়িয়া গ্রামের ইনতাজ আলী ও আলিমুদ্দিনসহ এলাকার লোকজন জানান, সাইদুর রহমান নিজেই ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে কলেজ শিক্ষক কাজেম উদ্দীন টিনের চালা তুলে রেখেছেন বলে উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। অবৈধভাবে জমি দখলের এটা তার একটা কৌশল বলে তারা মন্তব্য করেন। কালেজ শিক্ষক কাজেম উদ্দিন বলেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে সে এই ধরণের প্রতারণামূলক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

বাগমারা উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনারের মাহমাদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।