বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারার ‘আদর্শ প্রত্যাশা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ থেকে নেয়া ঋণের টাকা আত্মসাৎ করতে অভিনব কৌশল শুরু করেছে তিন প্রতারক। কিস্তির টাকা চাইতে গেলে সমিতির লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে ওই তিন প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে ওই প্রতারক চক্রের পক্ষ থেকেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি পাল্টা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের হাটমাধনগরস্থ ‘আদর্শ প্রত্যাশা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে হাটমাধনগর গ্রামের নূরমোহাম্মদের ছেলে উজ্জল হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোতাহার আলী ও তার ছেলে মুক্তার হোসেন গত ২০১৯ ও ২০২০ সালের দিকে তাদের চাহিদা মতো ঋণ নেয়।

ঋণ নেয়ার সময় সমিতির নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি করা হয়েছিলো ঋণ গ্রহনের দিন থেকে আগামী চার মাসের নির্দিষ্ট পরিমাণ কিস্তির মাধ্যমে সমুদয় টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু কয়েকটি কিস্তি দেয়ার পর ওই প্রতারক চক্র আর কিস্তি দেয়নি।

এ কারণে তাদের কাছে সমিতির পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা সমিতির লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারমূখী আচরণ করে এবং মারপিট করে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

তাছাড়া ওই তিন প্রতাক চক্র সমিতির বিরুদ্ধে এবং সমিতির লোকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা স্ট্যাটাস লিখে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চরম অপরাধ। মূলত সমিতির পাওনা ঋণের টাকা আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে তারা এই ধরনের প্রতারণা ও অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অপরদিকে কিস্তির টাকা না দেয়ায় ওই সমিতির লোকজন গত ৩ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে মাধনগর বাজারস্থ মোতাহার হোসেনের দোকানে থাকা টিভি, বক্স, টেবিল ও চেয়ারসহ দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ঋণ গ্রহীতাদের পক্ষ থেকেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি পাল্টা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নরদাশ ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পার বিষয়টি মীমাংসার জন্য ঋণ গ্রহীতাদের নোটিশ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু তারা না এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সমিতির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক সুফিয়ান বলেন, প্রয়োজন হলে টাকা নিবে, কিন্তু দিবে না এটা হতে পারেনা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষকে ডাকা হবে। প্রমান সাপেক্ষে সমিতি টাকা পাওনা থাকলে তা অবশ্যই উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।