কৃষকদের মানববন্ধন (ইনসেটে মানববন্ধনে মহিলারাও অংশ নেন)

আবু বাককার সুজন, বাগমারা প্রতিনিধি : বাগমারার নরদাশ ইউপির চেয়ারম্যানের নিপীড়ণ ও অত্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকার কৃষকরা।

রোববার সকাল ১০টায় বাসুদেবপাড়া স্লুইসগেট সংলগ্ন সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন জোঁকাবিল সংলগ্ন ১০/১২টি গ্রামের কৃষক পরিবারের শতশত নারী-পুরুষ।

চেয়ারম্যানের বাহিনীর লোকজনের মারপিট ও নির্যাতনের শিকার হওয়া লোকজনও এই মানববন্ধনে যোগ দেন।

মানববন্ধন শেষে বাসুদেবপাড়া তিনমাথার মোড়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন আবুল কালাম, হেলাল উদ্দিন, আফজাল হোসেন, নাসির উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম।

বক্তারা অভিযোগ করেন- ২০১৮ সালে জোঁকাবিলে মাছচাষকে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষ প্রকল্পের ক্যাশিয়ার আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনার পর থেকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ওই বিলে মাষচাষ হয়ে আসছিল।

কিন্তু গোলাম সারোয়ার আবুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর জোঁকাবিলে উপর নজর পড়ে। তিনি বাগমারা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ।

এ কারণে দলীয় ক্ষমতার দাপটে তিনি জোর করে জোঁকাবিলে কৃষকদের শোষণ করে মাছচাষের জন্য তার বাহিনীর লোকজন নিয়ে নতুনভাবে প্রকল্প তৈরি করেন। এরপর ওই প্রকল্পের পক্ষ থেকে জোঁকাবিলের মোট ২ হাজার ৭শ’ বিঘা জমি ৫ কোটি টাকায় লীজ নেয়া হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী কৃষকদের প্রতি বিঘায় ১৮ হাজার করে টাকা দেয়ার কথা লিখিত চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বিঘা প্রতি মাত্র ৬ হাজার করে টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন।

এর প্রতিবাদ জানালে কৃষকদের উপর অমানিবক নির্যাতন, জুলুম ও অত্যাচার শুরু করা হয়। চেয়ারম্যান বাহিনীর লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হুমকি ধামকি দেয়ায় হাটমাধনগর, কাস্টনাংলা, বাসুদেবপাড়া, জোলাপাড়া ও গোড়সার গ্রামের কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং তারা হাটবাজারেও যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে।