আবু বাককার সুজন, বাগমারা : বাগমারায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের মাঝে বিনা মূল্যে বিতরণ করা অনুদানের ৫০টি ভেড়া পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সরকারি অনুদান হিসাবে পাওয়া বেড়াগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরই মারা গেছে বলে সুবিধাভোগীরা সোমবার দৈনিক সোনালী সংবাদকে জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার সমতল ভুমিতে বসবাস করা অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আর্থসামাজিক ও জীবনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় জেনটেচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে ভেড়া সরবরাহের দায়িত্ব পায়। সে অনুযায়ী ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত ১৯ ডিসেম্বর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ১১৬টি ভেড়া হস্তান্তর করে। ওই দিনই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ৫৮ টি পরিবারের মাঝে এক জোড়া করে ভেড়া বিতরণ করা হয়।

সুবিধাভোগী ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেড়াগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভেড়াগুলোর মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল এবং জ¦র হয়। অসুস্থ ভেড়াগুলোর চিকিৎসা করা হলেও সাত দিনের মধ্যে ৫০ টি ভেড়া মারা যায়।

তাহেরপুর পৌরসভার বলাই চন্দ্র সরকার বলেন, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর দিনই তার একটি ভেড়া মারা যায়। মহব্বতপুর গ্রামের কড়ি বালা ঋশি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের কম দামে অসুস্থ ও ক্ষীণ ভেড়া দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অসুস্থ বেড়াগুলোর চিকিৎসা করেও বাঁচানো যাচ্ছে না। চারদিনের মাথায় তারও একটি ভেড়া মারা গেছে। আরেকটি ভেড়া এখনো অসুস্থ রয়েছে।

গণিপুর গ্রামের সবিতা রানী অভিযোগ করে বলেন, রুগ্ন ভেড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। এসব ভেড়া দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন নয়, তাদের কষ্ট বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, রোগের লক্ষণ দেখে মনে হয় বেড়াগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ ভেড়াগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিপত্র অনুযায়ী বিতরণের এক মাসের মধ্যে যাদের ভেড়া মারা যাবে তাদের মরে যাওয়া বেড়ার পরিবর্তে নতুন করে আবার ভেড়া দেওয়া হবে।