খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বরুড়ার গালীমপুরের জমিদার বাড়ী। বৃটিশ আমলে তৈরি নান্দনিক জমিদার বাড়িটি অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। খসে পড়ছে ভবনের ভেতর ও বাহিরের দেওয়ালের পলেস্তর।

বিশাল বাড়িটির পাশেই রয়েছে ছোট একটি ঘর। তৎকালীন সময়ে জমিদারের কর আদায় কর হতো এ ছোট ঘরটিতে।

বর্তমানে জমিদার বাড়িটির ছোট ঘরটিতে তৎকালীন জমিদারের বংশধর ওয়ারিশ দাবিদার জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বসবাস করছেন।

জানা গেছে, বৃটিশ শাসন আমলের সময় গালীমপুরে জমিদারদের বসবাস ছিলো। জমিদারদের বসবাসের জন্য দুইটি নান্দনিক ভবন রয়েছে। তৎকালীন সময়ে প্রায় ৪৭ কানি জমির উপর এ জমিদার বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিলো।

১৯৫০ সালের দিকে জমিদার প্রথা বিলপ্তি হয়ে যায়। পরবর্তীতে জমিদারের বংশধররা ভারতের সোনামুড়ায় চলে যান। ভবন দুইটি নির্মাণে ইট, বালি ও লোহার পাত ব্যবহার করা হয়েছিলো। দরজা জানালাগুলো কাঠের। এখনো এসব জিনিস কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দিন দিন অযত্ন-অবহেলায় নান্দনিক কারুকাজের নির্মাণশৈলির বাড়িটি আজ ধংসের পথে।

ওই বাড়িতে বর্তমানে বসবাসকারী ওয়ারিশ দাবিদার জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া জানান, তারা আহসান মঞ্জিল এর বংশধর। সে এ জমিদার বাড়ির মালিক। তাই সে এখানে বসবাস করছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার জানান, দেশ স্বাধীনের পরে আসাদ আলী ভূঁইয়া ভারতের সোনামুড়া থেকে জমিদারের বংশধরের সাথে সম্পত্তি রেওয়াজ-বদল করে এখানে বসবাস করতেন বলে জানান। এখন জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়াসহ যারা বসবাস করেন তারা আসাদ আলী ভূঁইয়ার ওয়ারিশ।

গালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম জানান, জমিদার বাড়িটি দিন দিন অযত্ন-অবহেলায় ধংস হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া কিছু জমি বেদখল হয়ে গেছে।

বরুড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেছি। ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।