এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর, কোলা, মিঠাপুর, মথুরাপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে শত-শত বিঘা শসা ক্ষেত। যেন এই অঞ্চলটি শসার জন্য একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের সর্ববৃহৎ জেলা নওগাঁ।

আর এ জেলাটি ধান ও সবজির জন্য দেশ বিখ্যাত বলে ব্যাপক পরিচিত আছে। এ উপজেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। তাছাড়া উৎপাদিত শসার কদর বেশি বাজারে। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শসা উৎপাদিত হয় এখানে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা।

বর্ষার সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শসা চাষ করার উপযুক্ত সময়। বাজারে কয়কে বছর থেকে শসার দাম ভালো থাকায় শসা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এবার প্রায় পুরো উপজেলা জুড়ে শসার উৎপাদন বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে অতিরিক্ত খরা-অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকের দাবি আগামী বছরের তুলনায় এবারে ফলন হবে অনেক কম।

রহমত নামের একজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর তিনি ৬ কাঠা জমিতে শসা চাষ করেছিলেন। ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এবছর তিনি ১ বিঘা জমিতে শসা রোপণ করেন। শসা চাষীদের তথ্য জানাযায়, শসা চাষ করতে বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

প্রতি বিঘায় শসা উৎপাদন হয় ৬০ থেকে ৭০ মণ পর্যন্ত। তবে এবছর তাপদাহ ও অতিরিক্ত খরার কারণে উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে জানান এলাকার কৃষকরা।

আরেক শসা চাষী আজাদ হোসেন বলেন, এবছর ২৫ শতক জমিতে শসা চাষ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হলে ও বাজারে মুল্য ভালো পেলে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত শসা বিক্রয় করতে পারবেন তিনি। তবে শসা ক্ষেতে এবছর কয়েকটি রোগের লক্ষণ দেখা মিলছে বেশি।

এতে করে অনেক শসার গাছ জমিতে মারা পড়ছে। আর এতে করে কৃষককে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমণ শসা বাজেরে বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার ৩ শত থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা দরে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, এই উপজেলায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হেক্টর জমিতে শসা চাষাবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছরেও শসার ফলন ভালো হবে। বাজারে শসার ভালো দাম থাকায় কৃষকরা এবারো অনেক লাভবান হবেন।