শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : বৈরী আবহাওয়ায় চারদিন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা শুরু করেছেন জেলেরা। বুধবার সন্ধ্যায় সাগরে ভাসমান হাতিয়ার তিন জেলে উদ্ধার হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের দুবলারচরের ভেদাখালী থেকে বাগেরহাটের বগা এলাকার ফিশিংবোট ”এফবি সাব্বির” এর মালিক মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, সাগর এখন অনেকটা শান্ত ঝড়োবাতাস কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নেওয়া ফিশিংবোটসমূহ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার সাগরে মাছ ধরতে শুরু করেছেন।

বঙ্গোপসাগর থেকে পাথরঘাটার ফিশিংবোট এফবি ”মায়ের দোয়া” এর মাঝি আবুল কালাম মীর বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, বুধবার (১০ আগষ্ট) সন্ধ্যায় দুবলারচরের দক্ষিণে গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় দুইজন জেলেকে তার বোটে উদ্ধার করা হয়েছে। জেলেদের বাড়ী হাতিয়া।

জেলেরা হচ্ছে- সোহেল (২৫) এবং আফ্ফার (৩৫)। অপর একটি বোট এফবি ”আল্লাহর দান” এর মাঝি মামুন বুধবার বিকেলে হাতিয়ার আরো একজন জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছেন তার নাম মোঃ জাফর (৩০)।

উদ্ধারকৃত এ তিনজন হাতিয়ার ১৬ জন জেলেসহ ডুবে যাওয়া ফিশিংবোট এফবি ”নিশান ফিস” এর জেলে। এ পর্যন্ত ঐ বোটের ৮ জেলে উদ্ধার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৮ জেলে। উদ্ধারকৃত তিন জেলেকে পাথরঘাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মাঝি আবুল কালাম জানিয়েছেন।

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে সাগরের লালদিয়ারচরের কাছে ভাসমান পাওয়া এফবি ”মা-বাবার দোয়া” নামে ট্রলারটি তার মালিক চট্রগ্রামের বাশখালীর হারুন চেয়ারম্যানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাগরে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ঐ ট্রলারের জেলেরা অন্য ট্রলারে উঠে কুয়াকাটায় চলে যায় বলে গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার মোবাইল ফোনে জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো ও সাগর শান্ত হওয়ায় সুন্দরবনের দুবলা এলাকার খালে আশ্রয় নেওয়া ফিশিংবোটগুলো সাগরে মাছ ধরার জন্য চলে গেছে।