আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস : অবশেষে উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পে আশা আলো দেখা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সর্বশেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানীর সরাসরি রেলযোগাযোগ শুরু হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শনিবার এই প্রকল্পের বগুড়া অংশের এ্যালাইমেন্ট ও প্রস্তাবিত নতুন রেলজংশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে। এটি শুধু বগুড়াবাসীর চাহিদা নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের দাবি। তাই প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন যা বাস্তবায়নের পথে। তিনি জানান, নকশাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সব কিছু মিলিয়ে এর ব্যয় হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বগুড়া থেকে রেলপথে ঢাকা যাওয়া পথে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দুরত্ব কমবে। এতে যাতায়াত সময় অনেক কমবে। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এসময় রেলপথ সচিব হুমায়ুন কবীর, প্রকল্প পরিচালক মোঃ সুবক্তাগীন, প্রকল্পের ভারতীয় ডেপুটি টিম লিডার কে শ্রীনিবাস রাও, বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপকুমার চক্রবর্তী, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবররহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়া স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমানসহ রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী পরে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে প্রকল্পের টেক অব পয়েন্টে বগুড়ার রানীরহাটে প্রস্তাবিত রেল জংশন পরিশর্দন করেন। রেললাইনের কারণে বগুড়া শহরের যানজট পরিস্থিতি জানতে শহরের কয়েকটি রেলগেট ও সড়ক পরিদর্শনসহ বগুড়া অংশে সম্ভাব্য আন্ডারপাস ও ওভারপাসের জন্য কয়েকটি পয়েন্ট দেখেন।

এই প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল গেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বা পূর্বে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত মূল রুট ৭২ কিলোমিটার করা হবে।

এ ছাড়াও বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারসহ মোট ৮৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রুটে শাজাহানপুর, নয়মাইল, শেরপুর, চাঁন্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুর স্টেশন স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জের ৩২ কিলোমিটারের জন্য ৪৫০ একর জমি।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে সরাসরি এই রেল যোগাযোগের ফলে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পথ এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ভ্রমণের সময় কমবে। নতুন রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকা-বগুড়ার দূরত্ব কমে হবে ২১২ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া- সিরজাগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় তৃতীয় ক্রেডিট লাইনে ঋণ দিতে দেশটি সম্মত হয়। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে।