বগুড়া প্রতিনিধি : আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া সদরের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শংকিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কারন ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপর হামলা, ভাংচুর ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ নির্বাচনে নৌকা ছাড়া অন্য কোন বড় দলের প্রতিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী নেই। তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাই নৌকার প্রার্থীরা স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে যেকোনভাবে জয়লাভ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার মোট ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে আগামী ২৮ নভেম্বর এবং একটিতে (এরুলিয়া ইউপি) ইভিএম –পদ্ধতিতে ২৩ ডিসেম্বর ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। বাকী ২টি রাজাপুর ও ফাঁপোড় ইউনিয়নে পরের ধাপে ভোট গ্রহন করা হবে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। ৮টি ইউপি নির্বাচনে ৮জন প্রার্থী দলীয় প্রতিক নৌকা সহ ৩৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন।

ওই সব ইউনিয়নে মোট ৭১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি অধিক ঝুকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

এ ছাড়া আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র , বিএনপি ও অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। প্রতিক বরাদ্দের পর এসব ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচারনা শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকে প্রতিদ্বন্দি থাকলেও দলের মনোনয়ন না পেয়ে প্রায় সব ইউনিয়নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে আ’লীগ ও যুবলীগের একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকায় তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে মরিয়া ওঠার কারনে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথেও নৌকার কর্মীরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে নুনগোলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুল আলিম ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুল আলমের (আনারস) মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। কিন্তু আসামী গ্রেফতার হয়নি।

শাখারিয়া ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী এনামুল হক রুমির কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হাসান শামীম (আনারস) থানায় ১টি মামলা করলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। সেই সাথে নৌকার কর্মীদের হুমকির অভিযোগ করেছেন শামীম। এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হাসান শামীম (আনারস) জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি না করলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে ভয় পাবেন। নৌকায় ভোট দেবেন না এমন ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে শাসানো হচ্ছে। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি শংকিত। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

লাহিড়ীপাড়া ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইকবাল হোসেনের (চশমা প্রতিক) পক্ষ থেকে তাদের প্রচারকালে হামলা, মোটরবাইক ভাংচুর ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা দেয়া হলেও কেউ গ্রেফতার হননি। তিনিও নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে সন্দিহান। এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই সেটা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা দৃঢ় প্রতিঙ্গ। তাই এ ব্যাপারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, নুনগোলা ইউনিয়নের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীরা জামিন রয়েছেন। অন্য মামলার আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।