বগুড়া অফিস : বগুড়ায় ১৮ মেট্রিক টন ওজনের ৩৬০ বস্তা ইউরিয়া সার আত্মসাৎকারী চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার রাতব্যাপী পরিচালিত অভিযানে বগুড়ার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বগুড়ার নন্দীগ্রামের কৈগাড়ী সোনারপাড়া এলাকার মৃত দবির উদ্দিন আনারের ছেলে আব্দুল আলীম (৫০), শাজাহানপুর উপজেলার ফুলতলা এলাকার মৃত আব্দুল প্রামাণিকের ছেলে আল আমিন ওরফে আলাউদ্দিন (৩৫), ধুনট উপজেলার নিমগাছি উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আফরোজা বেগমের ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৮) ও একই উপজেলার সরুগ্রাম এলাকার মৃত আজিজার সাকিদারের ছেলে সজল (৩৫) এবং চুনিয়াপাড়া এলাকার মৃত মন্তাজ মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২)।

এ সময় সার আত্মসাতের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করেছে ডিবি। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী।

তিনি বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জ একতা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি থেকে ট্রাকে ( ঢাকা মেট্রো ট-১৬-৮১৯) করে ৩৬০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে রংপুর বাফার গুদামের উদ্দেশ্যে রওনা হন ড্রাইভার আল আমিন ওরফে আলাউদ্দিন।

একতা ট্রান্সপোর্টের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ স্বপন আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তালবাহানা শুরু করে। পরে সার নিয়ে ট্রাকটি যথাস্থানে না যাওয়ায় আব্দুস সামাদ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নেন।

এক পর্যায়ে আব্দুস সামাদ জানতে পারেন ট্রাকে থাকা ৩৬০ বস্তা ইউরিয়া সার বগুড়া ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি বাজারে রফিকুলের দোকানে বিক্রি করেছে। পরে আব্দুস সামাদ বগুড়া জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এর মাধ্যমে মালামাল সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে না দিয়ে তারা আত্মসাৎ করতো। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে। প্রেস কনফারেন্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, ডিবির ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ, শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।