বগুড়া অফিস : বগুড়ায় ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শাজাহান নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রায় ২০ বছর পর ঘোষিত রায়ে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধাসহ ১১ জনের যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক হাবিবা মন্ডল এই রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ মৃধা, একই ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের বিপ্লব মিয়া, রাসেল, জুয়েল প্রামাণিক, দক্ষিণভাগ গ্রামের সবুজ আকন্দ ও উজ্জল আকন্দ, একই গ্রামের আব্দুল মান্নান, পিলু খন্দকার, মোখলেছার রহমান মুকুল, আব্দুল হামিদ খোকা আকন্দ এবং জাহেদুর রহমান।

মোট ১১ জন আসামীর মধ্যে বিপ্লব, রাসেল ও জুয়েল প্রামাণিক পলাতক এবং রশিদ মৃধা সহ অপর ৮ আসামী রায় ঘোষনাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে শেখেরকোলা ইউপি নির্বাচনে বিএনপি নেতা রশিদ মৃধা এবং আব্দুস সাত্তার খান চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রশিদ মৃধা নির্বাচিত হন। তিনি পরের দিন মোটরসাইকেলযোগে বিভিন্ন এলাকায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বের হন। সন্ধ্যার দিকে তারা দক্ষিণভাগ গ্রামে পৌঁছলে মামলার বাদি মাহমুদুর রহমানের ভাই শাজাহান আলী ও ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানকে রাস্তায় দেখে তাঁর (রশিদ মৃধা) ভোট না করায় গালাগাল শুরু করেন। তারা এর প্রতিবাদ করলে রশিদ চেয়ারম্যান ও অন্য আসামিরা তাদের ওপরে হামলা চালায়। তাদের বেদম মারপিটে শাজাহান ও মান্নান গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি শাজাহান মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাহমুদুর রহমান বাদী হয়ে উক্ত ১১ আসামীর নামে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) নাসিমুল করিম হলি জানান, মামলায় ওই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন।

৮ আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রায়ে পলাতক ৩ আসামীর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।