বগুড়া অফিসআদমদীঘি প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘিতে পৃথক ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন আগুনে পুড়ে এবং অন্যজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় আদমদীঘি উপজেলার মুরইল ভাঙ্গা ব্রিজের পাশে কোচপুকুরিয়া নামক স্থান থেকে মর্জিনা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মর্জিনা বেগম শাওইল গ্রামের আবুল কাশেম নামের এক প্রতিবন্ধির তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আদমদীঘির শাওইল গ্রামের আবুল কাশেমের তালাক দেয়া স্ত্রী মর্জিনা বেগম প্রায় ৪ বছর যাবত দুপচাঁচিয়া উপজেলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। সে মাঝে মধ্যে আদমদীঘি উপজেলা এলাকায় ঘোরাফেরা করতো। বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টায় জনৈক কৃষক মুরইল ব্রিজের পাশে কোচপুকুরিয়া নামক স্থানে একটি জমিতে গলায় ওড়নার পেঁচানো একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে হৈচৈ করে। বেলা ১১ টায় আদমদীঘি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

অপরদিকে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে শামীমা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ওই নারীর লাশ উদ্ধার করলেও তার স্বামী আজাদুর রহমান (৫০)কে খুঁজে পাচ্ছে না। রাতে স্বামী ও স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমালেও অগ্ন্কিান্ডের পর থেকে স্বামী নিরুদ্দেশ রয়েছেন। অগ্নিকান্ডে টিনের দুইটি ঘর ও আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে আদমদীঘি উপজেলার বসিপুর গ্রামে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আজাদুর রহমান ৬ বছর আগে বসিপুর গ্রামে জমি কিনে ২টি টিনের ঘর নির্মাণ করে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। আজাদুর পেশায় কাচাঁমাল ব্যবসায়ী। তার বড় ছেলে রানীনগরে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। মেয়েকেও অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। বসিপুর গ্রামে তারা স্বামী- স্ত্রী বসবাস করতেন। আজাদুরের ছেলে রাকিব জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে মা শামীমার সঙ্গে কথা হয়। সে সময় তার বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর রাত ৩টার পর আজাদুরের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আদমদীঘি থানা পুলিশ আগুনে পোড়া শামীমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু তার স্বামী আজাদুরের কোন সন্ধান পায়নি পুলিশ।

আদমদীঘি থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আজাদুরের ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী তার বাবা ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘটনাটির অনুসন্ধান চলছে। অপরদিকে মর্জিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে কোন ঘটনায় মামলা হয়নি।