ছাত্রলীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

বগুড়া অফিস : ছাত্রলীগের নবগঠিত বগুড়া জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের অবমূল্যায়িত সকল নেতা কর্মীবৃন্দ এবং ১৫টি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে’ শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবাইদুল্লাহ সরকার স্বপন।

তিনি বলেন, ‘যতদিন এই কমিটি বাতিল করা না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আন্দোলনকে ঘিরে কোন বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে যদি সহিংস ঘটনার সূত্রপাত হয় তবে সেই দায়ভার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গদের নিতে হবে। তারা বর্তমান কমিটি বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্যদের নিয়ে জেলা কমিটি গঠনের জন্য প্রদান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের মার্চে নিহত জেলা ছাত্রলীগ নেতা তাকবির ইসলাম খানের পিতা জহুরুল ইসলাম খান দুলালও বক্তব্য রাখেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তার ছেলের হত্যাকারীকে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশে দেখা যাচ্ছে এবং সেই খুনির কাছ থেকে তারা ফুলের মালাও নিয়েছে। এতে পিতা হিসেবে আমি যেমন শঙ্কিত তেমনি ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

গত ৭ নভেম্বর রাতে কেন্দ্র থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সজীব সাহাকে সভাপতি এবং আল-মাহিদুল ইসলাম জয়কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। তার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই তালা খুলে দেওয়া হলেও নবগঠিত ছাত্রলীগের পরিচিতি সভা আহবানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে অবশ্য আলোচনার কথা বলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের অনুরোধে গত ১১ নভেম্বর থেকে দুইদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দাবি আদায় না হওয়ায় পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন।

শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বগুড়ায় এবার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি। সম্মেলন ছাড়াই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গঠন করা কমিটিতে কোন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতৃবৃন্দকে রাখা হয়নি। অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, সমকামী, অপহরণকারীসহ অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্তদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে বগুড়ার রাজনৈতিক কর্মীরাই শুধু নন সাধারণ মানুষও হতবাক। এক প্রশ্নের জবাবে বগুড়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবাইদুল্লাহ সরকার স্বপন বলেন, অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। প্রয়োজনে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ বগুড়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি কে এম মোজাম্মেল হোসাইন বুলবুল, কাহালু উপজেলা শাখার সভাপতি সৌগির আহমেদ রিতু, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শুভ আহমেদ, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাব্বী স্বাধীন, শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু, শেরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বগুড়া শহর শাখার সভাপতি সুজিত কুমার দাস, শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুম পারভেজ মুকুল, দুপচাঁচিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, ধুনট উপজেলা শাখার সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, গাবতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর বিপ্লব, সারিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল, সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজে শাখার সভাপতি সুমন এবং সরকারি সান্তাহার ডিগ্রী কলেজ শাখার সভাপতি রাজন কুমার।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ওবাইদুল্লাহ সরকার স্বপন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক উল্লেখ করে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের ২০টি ইউনিটের মধ্যে ১৬টি ইউনিট নতুন কমিটি বাতিলে আন্দোলন করছে। তবে বাকী ৪টি ইউনিটের কোন কমিটি নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।