আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস : বগুড়ার রাজাবাজারে কাঁচা মরিচের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। গত তিন-চারদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ডাবল সেঞ্চুরি ছাঁড়িয়ে গেছে। ফলে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে কাঁচা মরিচ। তাই কাঁচা মরিচের বহার কমে দিয়েছেন রাঁধুনীরা।

ক্রেতারা বলছেন, ছোট-খাটো দুর্যোগ বা সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলেই কাঁচা মরিচসহ সবজির দাম হুট করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে, বিক্রেতারা বলছেন, দেশে তীব্র তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমের কারণে কাঁচা মরিচের গাছ নষ্ট হয়েছে। এ জন্য বাজারে মরিচ কম আসছে। তাই দাম বেড়ে গেছে বগুড়া শহরের প্রধান পাইকারী বাজার রাজাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি কাচামরিচ সর্বনিম্ন ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।

এ ছাড়া অধিক ঝালের কাঁচা মরিচ ২৪০ থেকে ২৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের তুলনায় বাজারে কাচা মরিচের আমদানি অনেক কম। এ ছাড়া কাঁচা মরিচের লাগামহীন দাম শুনে অনেক ক্রেতাকেই ফিরে যেতে দেখা গেছে।

সরকারি চাকুরিজীবী বিউটি বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, দেশে খরার অজুহাতে শুধু কাঁচা মরিচ নয়, বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে। এভাবে সব জিনিসের দাম দফায় দফায় বাড়লে বাজার করাই আমাদের কঠিন হয়ে পড়বে। হেলেনা বেগম নামের এক কাঁচা মরিচ ক্রেতা বলেন, আমি মূলত ৫০০ গ্রাম করে কাচা মরিচ কিনি। আজকেই এই প্রথম ২৫০ গ্রাম কঁচা মরিচ কিনে বাড়ি যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত এভাবে সবজির দাম বাড়লে আমরা কী খাব।

কাঁচা মরিচ বিক্রেতা সেলিম হোসেন বলেন, সবজির দাম তেমন না বাড়লেও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে নিয়ে আসছি, তা থেকে কেজি প্রতি দুই-তিন টাকা লাভ করে বিক্রি করছি।

বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, কাচা মরিচের উৎপাদন ও আমদানি দুটোই কমে গেছে। এছাড়া ডলারের দামের অস্থিরতা ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে অনেক ব্যবসায়ীই কাচা মরিচ আমদানি করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে কয়েকদিনের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে আমাদের হিলি (হাকিমপুর) সংবাদদাতা মুরাদ ইমাম কবির স্থানীয় কাঁচা মরিচ আমদানীকারক বাবলুর রশিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত থেকে কাাঁচা মরিচ আমাদানীর জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আমদানী অনুমতি (আইপি) প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রায় ১ বছর আগে থেকে সে অনুমতি না পাওয়ায় আমদানী করা যাচ্ছে না। আমদানী শুরু হলে বাজার অনেকটা স্বাভাবিক হবে।