বগুড়া অফিস : বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরী মহিলা অনার্স কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম।

শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অত্র কলেজের তহবিলে প্রায় ৩ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। সেই টাকা অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুকে ধার না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে তিনি নানাভাবে হয়রানী করছেন। তারই অংশ হিসেবে অন্যায়ভাবে গত বৃহস্পতিবার আমাকে কোন কিছু না জানিয়ে কলেজের একটি সভা করে আমাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সহ অন্যদেরকে জানিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ একেএম নূরুল ইসলাম বলেন, মজিবর রহমান মজনু কলেজের সভাপতি হওয়ার পর থেকে কলেজ তহবিলের বিপুল অংকের টাকা বিভিন্নভাবে গ্রহণ করে আত্মসাত করেছেন। তিনি কলেজে ৫০ জন শিক্ষ ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কলেজ উন্নয়নের নামে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা আত্মসাত, কলেজ সরকারীকরণের নামে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাত, মাটিকাটাসহ বিভিন্ন ভূয়া ভাউচার দেখিয়ে অনেক টাকা আত্মসাত করেছেন। কিন্তু তার এসব অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করে না। তিনি প্রতিনিয়ত স্বশরীরে অধ্যক্ষ রুমে গিয়ে রেজুলেশন বই নেয়ার জন্য হুমকি দেন। এ ঘটনায় আমি শেরপুর থানায় সাধারণ ডাইরী করেছি।

এদিকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু জানান, সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। সেসব অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনে কলেজের অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও ক্ষমতার অব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গভর্নিং বডির সভায় তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে কলেজের প্রভাষক উপাধ্যক্ষ রুহুল আমিনকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় যা ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায় ও বিধিবহির্ভূতভাবে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কলেজের ফান্ডে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। সেসব টাকা হরিলুট করতেই নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের এসব অবৈধ কর্মকান্ডে সম্মতি না দেওয়ায় অবৈধভাবে আমার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।