বগুড়া অফিস : বগুড়ায় ঢাকামুখী কোচে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাস শ্রমিকদের জরিমানার প্রতিবাদে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ অববরুদ্ধ, রাস্তা অবরোধ ও টিকেট কাউন্টার বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসব ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী নন এসি কোচের প্রতি সিট ভাড়া সরকার নির্ধারিত ৪৫০ টাকা হলেও শ্যামলী পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী, একতা পরিবহন কাউন্টারে আদায় করা হচ্ছিল ৫৫০ টাকা হারে। এই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন।

আদালত ঠনঠনিয়া কাউন্টারে গেলে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শ্যামলী পরিবহণের ম্যানেজার কামালকে ৬ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন। এ ছাড়াও শাহ ফতেহ আলী ও একতা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতারা অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। কাউন্টার কর্তৃপক্ষগুলো ভাড়া নেয়ার বিষয়টি তাদের বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সিদ্ধান্ত বলে জানান।

এক পর্যায়ে টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিকরা বাস বন্ধ করে দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ বিন মনসুর।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত মূল্যের টিকিট পাওয়ায় শ্যামলী পরিবহনকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর সব কাউন্টারকে সরকার নির্ধারিত মূল্য ৪৫০ টাকায় টিকিট বিক্রি করতে বলা হয়েছে। কারণ সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে বাস সংগঠন এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেটের এমন নির্দেশনার পরে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। কিন্তু বাস পরিবহন নেতা আমিনুল ইসলাম কাউন্টারে গেলে শ্রমিকরা আবার উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

তাদের দাবি, জরিমানার অর্থ আদালতকে ফেরত দিতে হবে। এমন দাবিতে তারা আবার সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বগুড়া বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত আসার আগে পরিবহন সংগঠনের কাউকে জানানো হয়নি। তারা এসে অযাচিতভাবে জরিমানা করেছেন। এই টাকা ফেরত দিতে হবে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, একটা রায় ঘোষণা হলে সেটার অর্থ ফেরত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রায়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে সেই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবর আপিল করতে পারবেন।

এদিকে শ্রমিকরা দ্বিতীয়দফা সাতমাথা-বনানী আঞ্চলিক সড়কের বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশেই আগের চাইতে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। বাস কাউন্টারে আসা ঢাকাগামী প্রায় কয়েকশত যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অবরোধ চলার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড ত্যাগ করতে চাইলে উপস্থিত বাস কাউন্টার ও পরিবহন শ্রমিকরা ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি আটকে দেয়। প্রায় ২০ মিনিট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ থাকার পর সদর থানার ওসি সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে আসেন।

তিনি পরিবহন নেতা আমিনুল ইসলামের সাথে তাৎক্ষণিক আলোচনা করেন ও সব সমস্যার আইনগত সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপরে দুপুর ১টার দিকে মটর মালিক নেতা আমিনুলের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেন ও বাস কাউন্টারগুলো খুলে দেন শ্রমিকরা। এরপরেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, জরিমানার অর্থ ফেরতের দাবীতে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের আশ^াসে অবরোধ তুলে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।