এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। অপেক্ষায় থাকা এসব যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেশি।

সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনের বাড়তি চাপে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারের সারি তৈরি হয়।

যশোর থেকে ছেড়ে আসা বিকাশ পরিবহনের চালক ছলেমান শেখ জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের ভোগান্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বাসের মধ্যে বসে থেকে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বেনাপোল থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক রাকিব মিয়া জানান, বিগত বছরগুলোয় দৌলতদিয়া ঘাটে সমস্যা হলে আমরা সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা চলে যেতাম। কিন্তু এ বছর তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে, যে কারণে যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে ঢাকায় গেলে ট্রাক মালিকের লাভ তো দূরে থাক, আসল নিয়ে টানাটানি শুরু হবে। তার থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফাঁকা সড়কের উপর বসে আছি।

ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন বলেন, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটের অচলাবস্থা, ফেরি চলে কম যে কারণে ওই নৌ-রুটের ট্রাকগুলো এই নৌ-রুটে চলে এসেছে। তাছাড়া ঈদের আগে ও পরে মোট সাত দিন ফেরিতে ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। এ জন্য যার যার মালামালসহ ট্রাক নিয়ে আগেই গন্তব্যে চলে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, ঈদের আগে ও পরে পণ্যবাহী ট্রাক বন্ধ থাকার খবরে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো একযোগে রাজধানীমুখী হয়েছে। তাছাড়া ঢাকা থেকেও অনেকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার পরিজনকে আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছে। এ জন্য ঘাটের দুই প্রান্তেই কিছুটা যানবাহনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই নৌ-রুটে বর্তমানে ১৯টি ফেরি মধ্যে ২ টি রো রো ফেরি ২ দিন ধরে বিকল হয়ে মেরামতে রয়েছে। এখন ফেরি চলছে মাত্র ১৭ টি।

তাছাড়া গত রাতে ঝড়ের কারনে ফেরি বন্ধ ছিল,তাতেও অনেক গাড়া গত রাত থেক আটকা পরে যানজট সৃষ্টি করেছে।আর ঢাকাগামী শনিবারের অতিরিক্ত গাড়ির চাপ তো আছেই। তবে ঈদ উপলক্ষে আরও ২টি ফেরি বহরে যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।