বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলের জমিতে তামাক ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। তামাক চাষাবাদের সবশেষ পরিস্থিতির খোঁজ নিতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এলাকায় হচ্ছে তামাকের চাষাবাদ। অথচ গত কয়েক বছর আগেও এ এলাকায় ছিল না তামাকের চাষাবাদ। এ অঞ্চলে চাষ হতো গম, ভুট্টা, আলুসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য।

দফায় দফায় বন্যার হানায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় সিগারেট কোম্পানির দেয়া ঋণের টাকায় খাদ্যশষ্য চাষাবাদের জমিতে এখন বিষাক্ত তামাক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তামাক চাষীরা। ফসলি জমি ও স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর জানার পরও জীবন ও জীবিকার তাগিদে তামাক চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের প্রায় ১শ কৃষক। যাদেরকে তামাক চাষাবাদের জন্য ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির তরফ থেকে দেয়া হয়েছে বিশেষ কার্ড। তামাক চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক কোম্পানির যাবতীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ অঞ্চলের একেক জন কার্ডধারী এবারে ৩ থেকে ৭ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছেন। এছাড়াও কার্ড না পেয়েও আরও ৩০ একর জমিতে তামাক চাষ করেছেন এখানকার বেশ কিছু কৃষক।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চলতি মৌসুমে উপজেলায় হেক্টর ১৫ জমিতে তামাক চাষাবাদের তথ্য জানানো হলেও মাঠে এসে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শুধুমাত্র বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম ও পশ্চিম ধনিরাম গ্রামেই প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষাবাদ করছেন বলে জানিয়েছেন চাষীরা। এছাড়াও উপজেলার শিমুলবাড়ী ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে বিক্ষিপ্তভাবে তামাকের ক্ষেত দেখা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার চর মেখলি, চর ধনিরাম পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা সমকালীন ফসলের জমির পাশে চাষকৃত তামাকের ক্ষেত থেকে তামাক পাতা সংগ্রহ করছেন চাষীরা। বীজ, সার ও অগ্রিম ঋণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় গম, ভুট্টা, আলুসহ ও অন্যান্য শস্যের পরিবর্তে তামাক চাষকেই অধিক লাভজনক মনে করছেন কৃষকরা।

পশ্চিম ধনিরাম এলাকার তামাক চাষী ফনি ভূষণ বলেন, তামাক চাষ করতে আমাদের টাকা লাগে না। কোম্পানির লোক টাকা, সার, বীজ দেয়। তামাক চাষাবাদের সময় কি কি করতে হবে বলে দেয়। আবার নির্দিষ্ট স্থানে নগদ টাকা দিয়ে তামাক কিনে নেয় কোম্পানি। আমি দুই বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে।

তামাক চাষী রফিকুল ইসলাম, নুরুল হক, শফিকুল ইসলাম, এরশাদুল হক বলেন- আমন চাষাবাদ করার পরে এখানকার জমিতে কলা, গম, ভুট্টা, আলু, আলু, মরিচ চাষাবাদ করা মৌসুম শুরু হয়।এসময় আমাদের হাতে টাকা থাকে না।তাই আমরা বাধ্য হয়ে টোব্যাকো কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তামাক চাষাবাদ করি। অল্প খরচে কোম্পানির টাকায় তামাক চাষ করে আমাদের ভালোই লাভ হয়।

স্বাস্থ্যের ক্ষতির কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, তামাক চাষ স্বাস্থ্যের ও জমির জন্য ক্ষতিকর এটা শুনেছি। স্বাস্থ্যের ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য কোম্পানির লোক আমাদের মাস্ক ও গোলপ্স ব্যবহার করতে বলেছে। এরপরেও যদি অসুখ বিসুখ হয় কী করার? এখন তো খেয়ে বাঁচি। পরে যা হওয়ার হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, তামাক চাষ পুরোপুরি বন্ধে সরকারি নির্দেশনা নেই। তামাক চাষ কমিয়ে আনার জন্য আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করে যাচ্ছি। কৃষকদের তামাক চাষের পরিবর্তে অন্যান্য লাভজনক ফসল যেমন, কলা, গম, ভুট্টা, মিষ্টি আলু, মরিচ ইত্যাদি ফসল চাষাবাদ করতে পরামর্শ দিচ্ছি।