বগুড়া অফিস : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইনের সংশোধনী এবং সম্প্রতি জারিকৃত তথ্য পরিকাঠামো বিষয়ক পরিপত্র স্বাধীন সাংবাদিকতার চূড়ান্ত আঘাত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৫ ধারার দোহাই দিয়ে জারিকৃত তথ্য পরিকাঠামো পরিপত্র প্রতারণামূলক। সাংবাদিক সমাজ এটা প্রত্যাখ্যান করছে। যদি নতুন করে এসব কালাকানুন বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয় তবে সাংবাদিতক সমাজ প্রতিহত করবে। তিনি এ জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।

শনিবার সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

শহরের টিএমএসএস অডিটোরিয়ামে সভাপতি মির্জা সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফইউজে’র মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন।

আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিএফইউজে’র সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও দপ্তর সম্পাদক তোফায়েল হোসেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সাবেক সভাপতি মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ ও সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, সিনিয়র সদস্য এফ শাহজাহান, আবুল কালাম আজাদ, মমিনুর রশিদ শাইন, আব্দুর রহিম, আব্দুস সাত্তার, মাহফুজ মন্ডল, ফেরদৌসুর রহমান আতাউর রহমান মিলন, আব্দুল খালেক নান্নু প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সাধারণ সম্পাদক গণেশ দাস।

প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশ আজ সত্যিকারের সংবাদমাধ্যমবিহীন রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে। আমাদের সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় বর্তমানে সত্যিকারের সংবাদমাধ্যমের চরিত্র নেই। আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাচন এলেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন কালা-কানুন তৈরি করে। এসব করে তারা গণমাধ্যমকে ভীতির মধ্যে রাখে। ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে তথ্য প্রযুক্তি সংশোধন করে কুখ্যাত ৫৭ ধারা যুক্ত করেছে। মধ্যরাতের ভোটের চিত্র যাতে গণমাধ্যম প্রকাশ করতে না পারে সেজন্য ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। এবার প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার সাংবাদিকদের পায়ে নতুন করে শিকল পরানোর চেষ্টা করছে। এই আইনে কেউ অভিযোগ না করলেও প্রেস কাউন্সিল নিজেরা চাইলে একটি সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করতে পারবে। একজন সাংবাদিককে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। এসব করে সরকার মূলত: গণমাধ্যমের পায়ে নতুন করে শিকল পরাতে চায়। আমরা এই বিতর্কিত সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করছি।

এম আবদুল্লাহ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত ৫০জন সাংবাদিক খুন হয়েছে। প্রতি মাসে ১৫-২০জন সাংবাদিক হামলা-মামলা শিকার হচ্ছেন। আর কোন পেশাজীবি এতটা নির্মম জুলুমের শিকার হননি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অতি গোপনে তথ্য পরিকাঠামোর পরিপত্র জারির মাধ্যমে সরকার নতুন করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে । তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে পূঁজি করে ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা করেছে। আমরা এই পরিপত্র প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে এই গণমাধ্যমবিরোধী পরিপত্র বাতিলের জোর দাবী জানাচ্ছি।

বিএফইউজে’র মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন বলেন, গণমাধ্যমবিরোধী ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন না হলে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আসবেনা। এ জন্য সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য সবাইকে এক যোগে লড়াই করতে হবে।