ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : প্রেমে প্রতারিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাজী ইমরান আহমেদ নামের এক যুবক। কাজী ইমরান আহমেদ ঢাকা মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের কাজী শাহাদাত হোসেন এবং কাজী শিরীনা আক্তারের ছেলে।

শনিবার বিকেলে নীলফামারীর ডোমার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি এলাকার রফিকুল ইসলাম ও তাহমিনা বেগমের মেয়ে রাহাত জাহান (৩৮) এর সাথে গত দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পরিচয়। এই পরিচয়ের সুত্রধরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুজনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সুবাদে রাহাত জাহানের বড়বোন চিলাহাটি ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী ডাঙ্গাপাড়া গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিএম মজিবুর রহমান বিপুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

এর কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়ার পর তার বোন দুলাভাইয়ের আমন্ত্রণে আমি চিলাহাটি মার্চেন্ট স্কুল সংলগ্ন তাদের বাসায় যাই। এক পর্যায়ে তাদের পরিবারের সাথে আমার পরিবারের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়ে উঠে। আমার ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য মোটা অংকের টাকার জন্য কিছু জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত লই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাহাত জাহানের অপর বোন চাঁদ সুলতানা ও তার স্বামী কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কৌশলে জমির মূল নথিপত্র হাতিয়ে নেয়। পরে জমি বিক্রির ব্যপারে খোজ খবর নিলে তারা বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করে।

জমির কাগজপত্র ফিরত দিবে মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে, একপর্যায়ে কৌশলে আমার পার্সপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংকের চেকবই, ucb bank, dutch bangla Bank, brac Bank, prime Bank, midland Bank, এর ব্যাংক কার্ড ও মূল চেকবই সমুহ, novo air ইসুকৃত ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, ন্যাশনাল আইডি, নগদ ডলার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং এয়ার লাইন্স সমুহের মেম্বারশিপ কার্ড, মূল ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন দেশের মেম্বারশিপ কার্ড, ডিসিআর সংশ্লিষ্ট যাবতীয় এবং ইনকাম ট্র্যাক্সসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

কিছুদিন পর আমি তার কাছে আমার যাবতীয় কাগজপত্র ফেরত চাইলে সে আমার কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবী করে বসে। তার বোন দুলাভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তারাও আমার কাছে টাকা চেয়ে বসে এবং আমি যদি কোন রকম আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি তাহলে আমার চরম ক্ষতি সাধন করার হুমকি প্রদান করেন। তাদের সবার এমন আচরণে আমি দিশেহারা হয়ে যাই। তারা যেন আর কোন ছেলের সাথে প্রতারণা করতে না পারে তাই আমি আপনাদের মিডিয়ার সরনাপন্ন হয়ে এই ঘটনার সঠিক বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় কাজী ইমরান আহমেদ মুন্সিগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট ৬ নং আমলী আদালতে সিআর- ৬৯/২০২২নং মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।